কলকাতা

অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেফতার বাগুইআটির কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তী

বিধাননগর পুরনিগম এলাকায় সমরেশ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে ভয় দেখানো এবং সিন্ডিকেট রাজ চালানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

Truth of Bengal: তোলাবাজি, প্রোমোটারকে মারধর এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অবশেষে শ্রীঘরে ঠাঁই হলো বিধাননগর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তী ওরফে চিন্টুর। শুক্রবার বাগুইআটি থানার পুলিশ তাঁকে তাঁর বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে। মূলত দুই বছর আগে এক প্রোমোটারকে মারধরের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই সময় দীর্ঘদিন ফেরার থাকার পর তিনি থানায় আত্মসমর্পণ করে আগাম জামিন নিলেও, এলাকায় তাঁর দৌরাত্ম্য কমেনি বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। সম্প্রতি আবারও তোলাবাজির অভিযোগে নতুন করে এফআইআর দায়ের হতেই পুলিশ সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং তাঁকে গ্রেফতার করে।

বিধাননগর পুরনিগম এলাকায় সমরেশ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে ভয় দেখানো এবং সিন্ডিকেট রাজ চালানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগকারী প্রোমোটারের দাবি ছিল, দাবিমতো তোলাবাজির টাকা না দেওয়ায় তাঁকে বেধড়ক মারধর করেছিলেন সমরেশ। শুধু তাই নয়, নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সেই সময় মামলাটিকে ধামাচাপা দেওয়ার এবং অভিযোগকারীকে মিথ্যাবাদী প্রমাণ করার চেষ্টাও চালিয়েছিলেন এই কাউন্সিলর। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর পুরনো ফাইল পুনরায় খোলা শুরু হতেই সমরেশের বিপদ ঘনিয়ে আসে। শুক্রবারের এই ধরপাকড়ে পুরনো ও নতুন সবকটি মামলাকেই পুলিশ অন্তর্ভুক্ত করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তোলাবাজি, দুর্নীতি এবং সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে তাঁর সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করবে। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবেই একের পর এক অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন। সমরেশ চক্রবর্তীর গ্রেফতার সেই তালিকায় এক নতুন সংযোজন। পুলিশের এই পদক্ষেপে এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই কড়া বার্তা দিয়ে সরকার বুঝিয়ে দিল যে, অপরাধী যেই হোক না কেন, কাউকেই রেয়াত করা হবে না।

Related Articles