একদিনে দেড় হাজার গাড়িতে মামলা! শহরে হেলমেট ছাড়া ধরা পড়ল ৭৭৫ জন
খিদিরপুর থেকে পার্ক সার্কাস, পুলিশের জালে শয়ে শয়ে বাইক চালক
Truth of Bengal: তিলোত্তমার রাস্তায় আর হেলমেট ছাড়া বাইক নিয়ে ‘দাদাগিরি’ চলবে না। রাজ্যে পালাবদলের পরেই ট্রাফিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে কড়া পদক্ষেপ নিল নতুন সরকার। নবান্নের বিশেষ নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার শহরজুড়ে নজিরবিহীন তল্লাশিতে নামল কলকাতা পুলিশ। ফলও মিলল হাতে নাতে। বিকেল গড়াতেই দেখা গেল, ট্রাফিক আইন ভাঙার দায়ে মামলা দায়ের হয়েছে হাজার হাজার মানুষের বিরুদ্ধে।
হেলমেট ছাড়া ধরা পড়ল ৭৭৫ জন
কলকাতা পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত খিদিরপুর, পার্ক সার্কাস-সহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ৭৭৫ জন হেলমেটহীন বাইক চালককে আটক করা হয়েছে। বিশেষভাবে নজর দেওয়া হয়েছিল ইস্ট ট্রাফিক গার্ড অঞ্চলে, যেখান থেকে সবথেকে বেশি অর্থাৎ ৯১ জনকে হেলমেট ছাড়া পাকড়াও করা হয়। ট্রাফিক পুলিশের স্পষ্ট বার্তা, নিয়ম ভাঙলেই কড়া জরিমানা অথবা আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
বেআইনি পার্কিংয়ে জিরো টলারেন্স
শুধু হেলমেট নয়, শহরের যানজট কমাতে ফুটপাত ও রাস্তার ওপর বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ ঘোষণা করেছে পুলিশ। এদিন সাউথ ট্রাফিক গার্ড এলাকায় সবথেকে বেশি ১৫২৬টি বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ ছিল, বহু জায়গায় নিয়ম না মেনে গাড়ি পার্ক করায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছিল। এবার সেই সমস্যা মেটাতে সক্রিয় হয়েছে প্রশাসন।
মুখ্যমন্ত্রীর নজরে ট্রাফিক রিপোর্ট
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে ট্রাফিক ব্যবস্থার ওপর নজর রাখছেন। রাজ্য পুলিশের এডিজি (ট্রাফিক)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিদিনের রিপোর্ট সংগ্রহ করতে। নবান্নের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তাই ছোট-বড় শহর তো বটেই, মফস্বলের রাস্তায়ও হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে পুলিশকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।
শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দিনভর পুলিশের এই নজরদারি দেখে অনেক বাইক আরোহীই বলছেন, “এবার থেকে আর হেলমেট ছাড়া বেরোনোর ঝুঁকি নেওয়া যাবে না।” প্রশাসনের এই সক্রিয়তায় কলকাতার ট্রাফিক ব্যবস্থায় কতটা শৃঙ্খলা ফেরে, এখন সেটাই দেখার।






