কলকাতা

হালকা খাবার আর একরাশ দুশ্চিন্তা! ইডির লক-আপে প্রথম রাত কেমন কাটল সুজিতের?

সিজিও-তে প্রথম রাত, চোখে নেই ঘুম! বুধবার সকাল থেকেই সুজিতকে ইডির ম্যারাথন জেরা

Truth of Bengal: পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতারির পর প্রথম রাতটি মোটেও স্বস্তিতে কাটল না প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর। ব্যাঙ্কশাল আদালতের নির্দেশে ১০ দিনের ইডি হেফাজত মঞ্জুর হওয়ার পর মঙ্গলবার রাতেই তাঁকে নিয়ে আসা হয়েছিল সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, সারারাত প্রায় বিনিদ্র অবস্থায় কাটিয়েছেন তিনি।

নির্ঘুম রাত ও বুধবারের সকাল

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার রাতে সুজিত বসুকে অত্যন্ত হালকা খাবার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু খাবার খেলেও রাতে বারবার তাঁর ঘুম ভেঙে যাচ্ছিল। নতুন পরিবেশ এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির জেরার চাপ, সব মিলিয়ে প্রাক্তন মন্ত্রীকে বেশ বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল। বুধবার সকালেই নিয়ম মেনে ঘুম থেকে উঠে পড়েন তিনি। প্রথমে লিকার চা এবং পরে সামান্য প্রাতরাশ সেরে নেওয়ার পরেই শুরু হয় ইডির দ্বিতীয় দফার ম্যারাথন জেরা।

তদন্তের নিশানায় ‘অয়ন শীল’ সংযোগ

ইডির হাতে আসা অয়ন শীলের ডিজিটাল নথিতে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। অভিযোগ, সুজিত বসু বহু অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীর নাম সরাসরি সুপারিশ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, নিতাই দত্ত নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। আজ অয়ন শীলের সেই সমস্ত ডিজিটাল ডেটা সুজিতের সামনে রেখেই বয়ান রেকর্ড করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

লকডাউনের ‘রহস্যজনক’ আয় নিয়ে জেরা

আদালতে ইডি দাবি করেছে, সুজিত বসুর একটি রেস্তরাঁ করোনাকালে সরকারি বিধিনিষেধের কারণে সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হল, সেই বন্ধ ব্যবসা থেকেই নাকি কোটি কোটি টাকা আয় হয়েছে! এই টাকা আসলে নিয়োগ দুর্নীতির ‘কালো টাকা’ কি না, তা জানতে মন্ত্রীর ও তাঁর পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের কোটি কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট সংক্রান্ত নথি নিয়ে বসেছেন তদন্তকারীরা।

আগামী ২১ মে পর্যন্ত সিজিও কমপ্লেক্সেই থাকতে হবে সুজিত বসুকে। প্রভাবশালী হওয়ার তকমায় আদালত জামিন নাকচ করার পর, এখন দেখার এই ১০ দিনের হেফাজতে ইডি নতুন কোনও বড় নাম বা প্রভাবশালী নেটওয়ার্কের হদিশ পায় কি না।

Related Articles