আন্তর্জাতিক

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের কাছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠাল আমেরিকা

জানা গিয়েছে, আমেরিকার তরফে এক পাতার একটি স্মারকলিপি পাঠানো হয়েছে ইরানের কাছে।

Truth of Bengal: প্রায় তিন মাস ধরে চলতে থাকা ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে অবশেষে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একাধিক মধ্যস্থতা ও শান্তি বৈঠক সত্ত্বেও এতদিন সংঘর্ষ থামেনি। তবে এবার ইরানের কাছে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছে আমেরিকা। তেহরান সেই প্রস্তাবের জবাব দিতে পারে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর।

জানা গিয়েছে, আমেরিকার তরফে এক পাতার একটি স্মারকলিপি পাঠানো হয়েছে ইরানের কাছে। সেই প্রস্তাবে মোট ১৪টি শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে পাকিস্তান। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সরাসরি কোনও আলোচনা না হলেও ইসলামাবাদের মাধ্যমেই শান্তি প্রস্তাব তেহরানের কাছে পৌঁছেছে। এদিকে আশঙ্কা সত্যি করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর তেল ভাণ্ডার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। সেই আবহেই নতুন করে শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।

সূত্রের খবর, মার্কিন প্রস্তাবে ইরানের উপর আরোপিত বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ফ্রিজ হয়ে থাকা বিপুল পরিমাণ অর্থও মুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে চলাচলের উপর থাকা বিধিনিষেধ শিথিল করার কথাও উল্লেখ রয়েছে প্রস্তাবে। বদলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইরানকে তাদের পারমাণবিক কার্যকলাপ বন্ধ রাখতে হবে বলে জানানো হয়েছে। যদিও সেই সময়সীমা নিয়ে এখনও মতপার্থক্য রয়েছে দু’পক্ষের মধ্যে। কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এই প্রস্তাবের জবাব দিতে পারে তেহরান। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মতে, এই প্রথমবার ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা বাস্তব রূপ পেতে চলেছে।

তবে শান্তি প্রস্তাব পাঠালেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প  কড়া অবস্থানেই রয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান যদি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, তবে তাদের গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে। এমনকি সরাসরি সামরিক হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। যদিও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই শান্তি আলোচনায় ট্রাম্প সরাসরি যুক্ত নন। বিভিন্ন কূটনৈতিক দূত ও মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমেই আলোচনা এগোচ্ছে। এখন ইরান শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর গোটা বিশ্বের।

 

Related Articles