কঙ্কালীতলায় বিজেপির ‘শুদ্ধিকরণ’! মন্দির চত্বরে গঙ্গাজল ছিটিয়ে জারি হল কড়া ফরমান
দুধ ও গঙ্গাজল দিয়ে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণের শুদ্ধিকরণ করা হয়
Truth of Bengal: বীরভূমের ঐতিহ্যবাহী সতীপীঠ কঙ্কালীতলা মন্দির-এ মঙ্গলবার এক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উদ্যোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। মন্দিরের পবিত্রতা ও প্রাচীন আচার-অনুশাসন বজায় রাখার লক্ষ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র নেতা ও কর্মীরা মন্দিরে এসে বিশেষ পুজো ও শুদ্ধিকরণ কর্মসূচি পালন করেন। এদিন সকালে বিজেপি কর্মীরা মন্দিরে পৌঁছে প্রথমে দেবীর আরাধনা করেন। এরপর দুধ ও গঙ্গাজল দিয়ে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণের শুদ্ধিকরণ করা হয়। উপস্থিত কর্মীদের বক্তব্য, মন্দিরের আধ্যাত্মিক পরিবেশ ও ধর্মীয় মর্যাদা অটুট রাখতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল।
মন্দিরের সেবাইতদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মন্দির ট্রাস্টের অর্থ নিয়ে নানা অনিয়ম চলছিল। তাদের দাবি, পঞ্চায়েতের তরফে জোরপূর্বক টাকা তোলার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে মন্দিরের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছিল বলেই তারা জানান।
এদিন বিজেপি নেতা কর্মীরা আসেন এবং পুরোহিতদের বলেন,“ মন্দিরে কোন বিধর্মী মানুষ প্রবেশ করতে পারবে না ও পুজো দিতে পারবে না। হিন্দু ছাড়া কেউ মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবে না।” এমনটাই নির্দেশিকা দেওয়ার পাশাপাশি কঙ্কালীতলা মন্দিরের গেটে পোস্টার ও সাঁটিয়ে দেন বিজেপি নেতা কর্মীরা। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপির নেতা-কর্মীরা সেবাইতদের সঙ্গে বৈঠক করে মন্দির পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও ধর্মীয় নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলার উপর জোর দেন। তারা স্পষ্ট করে জানান, ভবিষ্যতে মন্দিরে প্রবেশ ও পুজো দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাচীন ধর্মীয় বিধি মেনে চলতেই হবে। বিশেষ করে গর্ভগৃহে প্রবেশ ও পুজোর ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা যায়।
মন্দির সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিভিন্ন অপ্রচলিত পদ্ধতিতে পুজো দেওয়া এবং নিয়ম বহির্ভূত প্রবেশের ঘটনা সামনে আসার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে এখন থেকে মন্দিরের ঐতিহ্য ও শাস্ত্রসম্মত নিয়ম বজায় রাখতে প্রবেশ ও পুজো ব্যবস্থায় কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। এদিকে, মন্দিরের এক সেবাইত জানান, তিনি নানুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী খোকন দাস-এর সমর্থনে পুজো দেওয়ার পর হুমকির মুখে পড়েছিলেন। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণে তাকে ভয় দেখানো হয়েছিল। যদিও বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ধর্মীয় আবেগ ও রাজনৈতিক তৎপরতা দুই-ই বেড়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সবসময় ধর্মীয় স্থানগুলির মর্যাদা, ঐতিহ্য এবং পবিত্রতা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে।






