মোথাবাড়ি কাণ্ডে বড় ধাক্কা! ৫২ জন অভিযুক্তের জামিন খারিজ
সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টের নির্দেশে এই স্পর্শকাতর মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর এনআইএ এদিন হেফাজতে থাকা অভিযুক্তদের জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে
Truth of Bengal: মালদহের মোথাবাড়িতে হাই কোর্ট নিযুক্ত বিচারকদের ঘেরাও এবং হেনস্থা করার ঘটনায় বড়সড় আইনি ধাক্কা খেল অভিযুক্ত পক্ষ। বৃহস্পতিবার এনআইএ বিশেষ আদালত মোফাক্কেরুল ইসলামসহ মোট ৫২ জন অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। আদালতের নির্দেশে আগামী ১৩ মে পর্যন্ত তাঁদের সকলকেই জেল হেফাজতে থাকতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টের নির্দেশে এই স্পর্শকাতর মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর এনআইএ এদিন হেফাজতে থাকা অভিযুক্তদের জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে।
ঘটনার সূত্রপাত এসআইআর-এর (Special Investigation Report) কাজকে কেন্দ্র করে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে বিচারকদের একটি দল কালিয়াচক-২ নম্বর ব্লক অফিসে ভোটার তালিকার বিতর্কিত নামগুলি যাচাই করার কাজ করছিলেন। অভিযোগ, যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল, তাঁরা উত্তেজিত হয়ে ব্লক অফিসের ভেতর সাতজন বিচারককে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখেন এবং তাঁদের হেনস্থা করা হয়। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে গড়ালে আদালত এই ঘটনায় এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দেয়।
তবে তদন্তভার গ্রহণ করা নিয়ে রাজ্য পুলিশ ও এনআইএ-র মধ্যে দীর্ঘ টালবাহানা চলে। এনআইএ-র অভিযোগ ছিল, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য পুলিশ তদন্তের প্রয়োজনীয় নথি এবং অভিযুক্তদের হস্তান্তর করতে দেরি করছিল। এনআইএ তদন্ত শুরু করার আগেই সিআইডি মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছিল। পরবর্তীকালে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে একে একে মোট ৫২ জনকে চিহ্নিত করে হেফাজতে নেওয়া হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত পুলিশ এনআইএ-র হাতে মামলার দায়িত্ব তুলে দেয়।
বৃহস্পতিবার এনআইএ আদালতে এই ৫২ জনের জামিন চেয়ে সওয়াল করেন তাঁদের আইনজীবীরা। পাল্টা যুক্তিতে এনআইএ-র আইনজীবী শ্যামল ঘোষ জানান, সরকারি কাজে বাধা এবং বিচারকদের ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর। মোট ১২টি মামলার শুনানি শেষে বিচারক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আবেদন মেনে নিয়ে অভিযুক্তদের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এনআইএ সূত্রে জানানো হয়েছে, দ্রুত এই মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট বা চার্জশিট জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।






