রাজ্যের খবর

“বাংলায় বুলডোজার চলবে না, চলবে ভালবাসা!”, যোগীর হুমকি উড়িয়ে পালটা গর্জন মমতার

বিজেপির টাকা নিলেই ইডি-সিবিআইয়ের ভয়? সিউড়ির সভা থেকে ভোটারদের বিশেষ সাবধানবাণী মমতার।

Truth of Bengal: চৈত্র শেষের তপ্ত আবহাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চড়ছে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পারদ। একদিকে রাজ্যের শাসকদলের হয়ে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে বিজেপির প্রচারে ভরসা সেই দিল্লির নেতাদের ‘ডেলি প্যাসেঞ্জারি’। গেরুয়া শিবিরের হয়ে প্রচারে এসে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ফের ‘বুলডোজার’ গর্জন ছাড়তেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিউড়ির সভা থেকে মোক্ষম জবাব দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

রবিবার কাঁথি-সহ রাজ্যের একাধিক কেন্দ্রে প্রচারে এসে যোগী আদিত্যনাথ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, উত্তরপ্রদেশের ধাঁচে বাংলাতেও অপরাধ দমনে বুলডোজার চালানো হবে। সোমবার সিউড়ির জনসভা থেকে সেই মন্তব্যকে ধুয়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কাল এসে এখানে বলেছেন, উত্তরপ্রদেশের মতো এখানেও বুলডোজার চলবে। মানেটা কী? আমরা বুলডোজার-নীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা ভালবাসার নীতিতে বিশ্বাস করি।” পাশাপাশি ভোটারদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “বিজেপির কাছ থেকে টাকা নেবেন না। ভুল করবেন না। অ্যাকাউন্ট বানিয়ে টাকা দেবে বলে কালো টাকা দিয়ে দেবে, তারপর ইডি-সিবিআইয়ের মামলা করবে।”

সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে এবার জোড়াফুল শিবিরের প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। তবে এদিন তাঁর সমর্থনে বলতে গিয়ে মমতা এক আবেগঘন বার্তা দেন ভোটারদের। তিনি সাফ জানান, প্রার্থী যেই হোন না কেন, আদতে লড়াইটা তাঁর একারই। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “উজ্জ্বল নয়, এখানে ধরে নিন আমিই প্রার্থী। তৃণমূলের নেতৃত্বে সরকার চাইলে ২৯৪ আসনেই আমাকে প্রার্থী বলে ভেবে নিন।” রাজনৈতিক মহলের মতে, ২৯৪ আসনে নিজেকেই প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে মমতা আসলে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে চাইছেন।

এদিন মমতার নিশানায় যেমন ছিল যোগীর বুলডোজার তত্ত্ব, তেমনই ছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা। সিউড়ির মঞ্চ থেকে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, উত্তরপ্রদেশের ‘দমননীতি’ নয়, বরং বাংলার মানুষ ভালবাসার রাজনীতিতেই সিলমোহর দেবেন। নির্বাচনের প্রথম দফার আগে মমতার এই ‘ভালবাসার নীতি’ বনাম যোগীর ‘বুলডোজার নীতি’র লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Related Articles