রাজ্যের খবর

বিচারকের ওপর হামলা কেন? ‘আইনশৃঙ্খলার শবযাত্রা বের করেছে তৃণমূল’, মোথাবাড়ি ইস্যুতে তোপ মোদির

ব্রিগেডের ভিড় দেখে ঘাবড়ে গিয়েছে দিদি! ‘ভয়ে বাংলা ছাড়বে তৃণমূল’, কোচবিহারের জনসভা থেকে বড় ভবিষ্যদ্বাণী মোদীর

Truth of Bengal: কোচবিহারের জনসভা থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মালদহের মোথাবাড়িতে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকের ওপর হামলার ঘটনা থেকে শুরু করে সন্দেশখালি ও আরজি কর- একাধিক জ্বলন্ত ইস্যুতে রাজ্যের শাসকদলকে তুলোধোনা করলেন তিনি। মোদির স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা আজ তলানিতে এবং এর জন্য দায়ী সরাসরি তৃণমূলের ‘জঙ্গলরাজ’।

মালদহের সাম্প্রতিক হিংসা নিয়ে সুর চড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলার সুরক্ষার দায়িত্ব এদের থেকে আশা করা যায় না। মালদহে যা হল, তা তৃণমূলের জঙ্গলরাজ। মহা জঙ্গলরাজ। বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের এভাবে নিশানা করা হয়? তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে।” বিচারকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও যোগ করেন, “পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলার শবযাত্রা বের করেছে তৃণমূল। যেখানে বিচারকরা সুরক্ষিত নন, সেখানে সাধারণ মানুষের কী হবে?”

নারী সুরক্ষা ও দুর্নীতি ইস্যুতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে রেয়াত করেননি মোদি। সন্দেশখালি ও আরজি করের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “মা-বোনেরা সুরক্ষিত নন। মা-বোনেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে- এটা মোদির গ্যারান্টি। ন্যায় হবেই।” একই সঙ্গে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, প্রত্যেক গরিব মানুষের মাথার ওপর পাকা ছাদ এবং নিজস্ব জমি-বাড়ি নিশ্চিত করবে তাঁর সরকার। ব্রিগেডের উপচে পড়া ভিড়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “ব্রিগেডের জনপ্লাবন দেখে তৃণমূল ভয় পেয়েছে। বাংলা থেকে এবার ভয়ে পালাবে তৃণমূল।”

এদিন কোচবিহারের মঞ্চ থেকে অনুপ্রবেশ এবং জনবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়ে তৃণমূলকে কড়া আক্রমণ শানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, তোষণের রাজনীতির কারণে অনুপ্রবেশ বাড়ছে এবং তাতে বাংলার আসল চেহারা বদলে যাচ্ছে। মোদি বলেন, “একদিকে তৃণমূলের দুর্নীতির ভয়, অন্যদিকে বিজেপির ভরসা। ঘুসপেটিয়াদের বাংলা থেকে বের করার ভরসা দিচ্ছে বিজেপি সরকার।” ভোটারদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রত্যেকে নিজের এলাকায় মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারবেন।

বক্তব্যের শেষে এক চাঞ্চল্যকর হুঁশিয়ারি শোনা যায় প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে। দুর্নীতির তদন্ত ও গত কয়েক বছরের হিংসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ভোটের পর এদের সব পাপের হিসাব হবে, বেছে বেছে হিসাব করা হবে।” মোদির এই ‘বেছে বেছে হিসাব’ নেওয়ার বার্তায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

Related Articles