বামেদের মনোনয়ন ঘিরে সরগরম হুগলি, মানুষের জোটেই কি ফিরবে লাল দুর্গ?
জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বাম কর্মীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো
Truth Of Bengal: নির্বাচনী নির্ঘণ্ট মেনে হুগলি জেলাজুড়ে শক্তির আস্ফালন ঘটিয়ে মনোনয়ন পত্র দাখিল করলেন বামফ্রন্টের প্রার্থীরা। শনিবার শ্রীরামপুর, চন্দননগর এবং চুঁচুড়ার প্রশাসনিক ভবনগুলিতে মিছিল করে এসে নিজেদের প্রার্থীপদ জমা দেন বাম শিবিরের একঝাঁক চেনা ও নতুন মুখ। মনোনয়ন পর্বকে কেন্দ্র করে এদিন সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বাম কর্মীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
শ্রীরামপুর মহকুমা শাসক দপ্তরে এদিন মনোনয়ন জমা দেন উত্তরপাড়ার হেভিওয়েট প্রার্থী মীনাক্ষী মুখার্জি। তাঁর সঙ্গেই প্রার্থীপদ দাখিল করেন শ্রীরামপুরের নবনীতা চক্রবর্তী, চাঁপদানীর চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, চণ্ডীতলার সেখ আসিফ আলি এবং জাঙ্গীপাড়ার পবিত্র সরদার। অন্যদিকে, চন্দননগর মহকুমা শাসক দপ্তরে গিয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন চন্দননগরের প্রার্থী মনীশ পান্ডা, সিঙ্গুরের দেবাশিষ চট্টোপাধ্যায় এবং তারকেশ্বরের আদেশ খামরুই। চুঁচুড়ায় জেলা শাসক ও মহকুমা শাসক দপ্তরে মনোনয়ন জমা দেন ফরোয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী সুনীল সাহা, সপ্তগ্রামের অনির্বাণ সরকার, বলাগড়ের বিকাশ গোলদার এবং পান্ডুয়ার আমজাদ হোসেন।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তীব্র আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দেন মীনাক্ষী মুখার্জি। এই নির্বাচনকে কেবল ভোট নয়, বরং একটি বড় রাজনৈতিক লড়াই হিসেবে ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “রাজ্যের মানুষ ইতিমধ্যেই তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বিজেপিকেও এ রাজ্যে থাবা বসাতে দেবে না।” শাসক ও প্রধান বিরোধী দলকে একাসনে বসিয়ে মীনাক্ষী প্রশ্ন তোলেন যে, সরকার পক্ষ বা বিজেপির বিধায়করা সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থে বিধানসভায় কোনও কার্যকর আইন আনতে পেরেছেন কি না।
মীনাক্ষীর দাবি, তৃণমূলের ‘গুন্ডারাজ’ থেকে বাংলাকে মুক্ত করতে অসাম্প্রদায়িক বুদ্ধিজীবী ও গণতান্ত্রিক সাধারণ মানুষ এখন বামেদের পাশেই এসে দাঁড়াচ্ছেন। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষাই তাঁদের এই লড়াইয়ের মূল লক্ষ্য বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন। হুগলি জেলার প্রতিটি মহকুমায় বামেদের এই শৃঙ্খলিত মিছিল ও মনোনয়ন পর্ব রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।






