এক ফুলে দুই প্রার্থী! ময়নাগুড়িতে বিজেপির মনোনয়ন ঘিরে চরম নাটক, কে আসল পদ্ম-প্রার্থী?
শনিবার ময়নাগুড়ি বিধানসভা আসন থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী হিসেবে জেলাশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন জমা দিলেন দু’জন নেতা- কৌশিক রায় এবং ডালিম রায়।
Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর্বে উত্তরবঙ্গের ময়নাগুড়ি কেন্দ্রে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হল। শনিবার ময়নাগুড়ি বিধানসভা আসন থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী হিসেবে জেলাশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন জমা দিলেন দু’জন নেতা- কৌশিক রায় এবং ডালিম রায়। দুজনেই নিজেদের ‘বিজেপি মনোনীত প্রার্থী’ বলে দাবি করায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। মজার বিষয় হল, এদিন বড় কোনও মিছিল ছাড়াই অত্যন্ত সাদামাটাভাবে গুটিকয়েক কর্মী-সমর্থক নিয়ে তাঁরা মনোনয়ন জমা দিতে পৌঁছান।
সবার আগে মনোনয়ন জমা দিয়ে বেরিয়ে আসেন কৌশিক রায়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান যে, তিনি বিজেপির হয়েই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন এবং এখন থেকে জোরকদমে প্রচার শুরু করবেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডালিম রায়ও কি মনোনয়ন জমা দেবেন? এই প্রশ্নের জবাবে কৌশিকবাবু কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে কিছুক্ষণ পরেই ডালিম রায় মনোনয়ন জমা দিয়ে বেরিয়ে এসে নিজেকেই ময়নাগুড়ির আসল বিজেপি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। কৌশিক রায়ের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘কে কী জমা করেছে জানি না। এখন যদি পাঁচজন দাবি করে আমি বিজেপি প্রার্থী, তবে তাই হোক। আমি দলের সিম্বল পেয়েছি।’’ তিনি আরও জানান যে, স্থানীয় সাংসদ তাঁকে নিজের দায়িত্বে রেখে বিশেষ কাজে বেরিয়েছেন।
বিজেপির অন্দরের এই ডামাডোল নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রাজেশ কুমার সিং এই ঘটনাকে বিদ্রূপ করে বলেন, ‘‘এক ফুল দো মালি! ওরাই আগে ঠিক করুক পদ্ম ফুলের মালিক আসলে কে।’’ নির্বাচনের মুখে একই দলের দুই নেতার এমন পরস্পরবিরোধী দাবি ময়নাগুড়ির বিজেপি কর্মীদের মধ্যেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। শেষ পর্যন্ত স্ক্রুটিনির পর কার মনোনয়ন টিকে থাকে এবং দল কার হাতে চূড়ান্ত প্রতীক তুলে দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।






