খেলা

‘দু-তিন হাজার রান!’, ছোট্ট বৈভবের বড় জবাবে হেসে লুটোপুটি সবাই

তাঁর ব্যাটে ভর করেই ভারত জিতল একতরফা ম্যাচ

Truth Of Bengal: মাত্র ১৪ বছর বয়স, কিন্তু মাঠে নামলে যেন অভিজ্ঞ তারকার মতোই ব্যাট ঘোরান বৈভব সূর্যবংশী। গত আইপিএলেই তিনি এমন এক ঝড় তুলেছিলেন, যা দেখে অনেকেই চোখ কচলাতে বাধ্য হয়েছিলেন। মাত্র পঁয়ত্রিশ বলে শতরান—এমন কাণ্ড যে কোনও বড় মাপের ব্যাটারকেও ভাবিয়ে দেয়!

সেই ছেলেটাই আবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেললেন অবিশ্বাস্য এক ইনিংস। আশি বলে একশো পঁচাত্তর রান! তাঁর ব্যাটে ভর করেই ভারত জিতল একতরফা ম্যাচ।

এবার তিনি তৈরি নতুন মরশুমের জন্য। চারদিকে প্রত্যাশা, আলোচনার ঝড়— সবটাই যেন ঘুরছে তাঁকে কেন্দ্র করে। এমন সময় এক সাংবাদিক একটু মজা করেই প্রশ্ন করে বসলেন, ‘এই মরশুমে কত রান করার লক্ষ্য রেখেছ? শীর্ষ রান সংগ্রাহকের পুরস্কারটা কি চাই?’প্রশ্নটা শেষ হতে না হতেই বৈভবের মুখে চওড়া হাসি। তারপর একেবারে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলে উঠলেন, ‘এমন প্রশ্ন করলে তো আমি বলে দেব—দু-তিন হাজার রান!’

মুহূর্তের মধ্যে চারপাশে হাসির রোল পড়ে যায়। উপস্থিত সবাই যেন হেসে গড়াগড়ি খাওয়ার অবস্থায়। ছোট্ট ছেলের এমন বড়সড় ‘টার্গেট’— না হেসে কি থাকা যায়! তবে হাসির মাঝেই নিজের আসল কথাটাও স্পষ্ট করে দিলেন বৈভব। তিনি জানালেন, নির্দিষ্ট কোনও রানের লক্ষ্য তিনি ঠিক করেন না। তাঁর চোখে একটাই লক্ষ্য— দলকে জেতানো। ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলগত সাফল্যই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এই বয়সেই বৈভব যা দেখাচ্ছেন, তা সত্যিই বিরল। বড় বড় ছক্কা মারা যেন তার কাছে খেলাচ্ছলে করা কাজ। টি-২০ ক্রিকেটে এমন প্রতিভা খুব একটা দেখা যায় না বলেই তিনি এত দ্রুত সবার নজর কেড়েছেন। মনে পড়ে যায়, নিলামে তাঁকে দলে নিতে বড় অঙ্কের টাকা খরচ করেছিল রাজস্থান। তখন অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। কিন্তু মাঠে নেমে ব্যাট হাতে তিনি যেন সেই বিশ্বাসের দাম সুদে-আসলে শোধ করে দিয়েছেন।

এখন প্রশ্ন একটাই— এই ‘দু-তিন হাজার রান’-এর মজার মন্তব্য কি শুধুই ঠাট্টা, নাকি তাঁর ব্যাটে আবারও দেখা যাবে নতুন কোনও বিস্ময়? সময়ই তার উত্তর দেবে। তবে একটা কথা নিশ্চিত—এই ছেলেটার দিকে নজর না রেখে উপায় নেই!

Related Articles