“শেষ দিন পর্যন্ত দিদির সঙ্গেই থাকব”, ধর্মতলায় ধরনা মঞ্চ থেকে আজীবন মুখ্যমন্ত্রীর পাশে থাকার আশ্বাস জয় গোস্বামীর
কবি জয় গোস্বামী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই থাকবেন।
Truth of Bengal: ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে আয়োজিত ধরনা মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে এসে দাঁড়ালেন কবি জয় গোস্বামী। সিঙ্গুর আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত এই একই জায়গায় ২০ বছর পর পুনরায় ধরনায় বসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এবারের লক্ষ্য, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া ৬৩ লক্ষ ভোটারের অধিকার রক্ষা করা। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে কবি জয় গোস্বামী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই থাকবেন।
ধরনা মঞ্চে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জয় গোস্বামী জানান, শারীরিক অসুস্থতা এবং তিনটি অস্ত্রোপচারের ধকলের মধ্যেই তাঁকে তাঁর ভোটাধিকার প্রমাণের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর স্ত্রী ও কন্যা সেই পরিস্থিতি সামাল দেন। তিনি আরও বলেন যে, এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করার ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীই তাঁকে সবরকম সহযোগিতা করেছেন। তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়ার জেরে সাধারণ মানুষ যে চরম হয়রানি ও সংকটের মধ্যে পড়েছেন, তার বিরুদ্ধে একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করতে পারেন।
বক্তব্য চলাকালীন নন্দীগ্রাম আন্দোলনের এক অজানা অধ্যায় স্মরণ করেন কবি। তিনি জানান, ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামে গুলিচালনার রাতে কীভাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাধা কাটিয়ে ভোররাতে হাসপাতালে পৌঁছেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গী হিসেবে সেই রাতে কবীর সুমনও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মহাশ্বেতা দেবীর বাড়িতে বসে গভীর রাতে মুড়ি খেতে খেতে কাজ করার প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর যে অদম্য জেদ তিনি দেখেছিলেন, তা এদিন সভামঞ্চে উপস্থিত সকলের সামনে তুলে ধরেন জয় গোস্বামী। হাঁসখালি ধর্ষণকাণ্ডের ন্যায়বিচারের নেপথ্যেও মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন কবি। তাঁর দাবি, যখনই বাংলার মানুষ সংকটে পড়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এভাবেই রাজপথে নেমে লড়াই করেছেন। ভোটাধিকার রক্ষার এই লড়াইকেও তিনি এক ঐতিহাসিক সংগ্রাম হিসেবে চিহ্নিত করেন।






