ফের র্যাগিং-আতঙ্ক যাদবপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে! শারীরিক ও মানসিক হেনস্থার বিস্ফোরক অভিযোগ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রের
বেশ কয়েকজন পড়ুয়া মিলে তাঁকে দীর্ঘ দিন ধরে উত্যক্ত করছেন
Truth of Bengal: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের র্যাগিংয়ের ছায়া। এবারও অভিযোগ উঠেছে সেই কলা বিভাগকে কেন্দ্র করে। তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্র সম্প্রতি ডিন অফ স্টুডেন্টসের কাছে শারীরিক ও মানসিক হেনস্থার লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, সহপাঠী এবং উঁচু ক্লাসের বেশ কয়েকজন পড়ুয়া মিলে তাঁকে দীর্ঘ দিন ধরে উত্যক্ত করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন এবং ইতিমধ্যেই অ্যান্টি র্যাগিং স্কোয়াড এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
অভিযোগকারী ছাত্রের নিশানায় রয়েছেন এসএফআই (SFI) সমর্থক কয়েকজন পড়ুয়া। ছাত্রটির বয়ান অনুযায়ী, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে তাঁকে নানা সময়ে হেনস্থা করা হয়েছে। তিনি জনৈক ছাত্রীর নাম উল্লেখ করে জানিয়েছেন যে, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কুরুচিকর বিদ্রূপ ও হাসাহাসি করা হয়েছে। যদিও অভিযোগকারী ছাত্রের নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক পরিচয় এখনও জানা যায়নি, তবে তাঁর অভিযোগে ক্যাম্পাসের ছাত্র রাজনীতির প্রসঙ্গটি জোরালোভাবে উঠে এসেছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে বাংলা বিভাগের এক প্রাক্তন ছাত্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী ছাত্রের দাবি, ওই প্রাক্তনী তাঁকে এসএফআই-এর সভায় যোগ দেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতেন। কথা না শুনলে ছাত্রটির ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই মানসিক চাপের মুখে পড়ে ওই ছাত্র এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন যে, দীর্ঘ দিন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখার সাহস পাননি।
পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়েছিল যে, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে ওই পড়ুয়াকে মনোবিদের সাহায্য নিতে হয়েছে। চিকিৎসার পর মানসিক শক্তি সঞ্চয় করে তিনি পুনরায় পড়াশোনায় ফিরেছেন এবং সাহসের সঙ্গে এই অন্যায়ের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। নথিবদ্ধ অভিযোগের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ এখন খতিয়ে দেখছেন যে, ক্যাম্পাসের অন্দরে বহিরাগত বা প্রাক্তনীদের প্রভাব ঠিক কতটা এবং এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কী কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।






