কলকাতা

‘মা গয়না চাইছেন’- খাস কলকাতায় মা কালীকে সামনে রেখে বুজরুকি ছড়ানোর অভিযোগ

ভিড় সামলাতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয় এবং এলাকা নিয়ন্ত্রণে আনতে র‍্যাফ নামাতে হয়।

Truth of Bengal: কলকাতায় ভক্তিকে হাতিয়ার করে ফের একবার অলৌকিক বুজরুকির আসর বসানোর অভিযোগ উঠল। উত্তর কলকাতার সুকিয়া স্ট্রিটের পর এবার মধ্য কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট সংলগ্ন এলাকায় জনমানসে বিভ্রম তৈরি করে ভক্তদের থেকে সোনা-দানা ও দামী বেনারসি হাতিয়ে নেওয়ার কারবার শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ভিড় সামলাতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয় এবং এলাকা নিয়ন্ত্রণে আনতে র‍্যাফ নামাতে হয়।

ঘটনার সূত্রপাত মূলত সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। ফেসবুক ও ইউটিউবে রটিয়ে দেওয়া হয় যে, এই মন্দিরে দেবী মা জীবন্ত রূপে অবস্থান করছেন এবং তিনি ভক্তদের মনের কথা শুনতে পান। এই প্রচারের ওপর ভিত্তি করেই ভিড় জমাতে থাকেন বহু মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, একদল স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি সুকৌশলে প্রচার চালাচ্ছেন যে, দেবী মা নির্দিষ্ট কোনো ভক্তের কাছে গয়না বা বেনারসি আবদার করছেন। ভক্তির আবেগে গা ভাসিয়ে অনেক ভক্ত যখন সেই অলঙ্কার পরিয়ে দিচ্ছেন, তখন ‘মায়ের পছন্দ হয়েছে’ এই অজুহাতে সেই গয়না কার্যত কেড়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও চাঞ্চল্যকর দাবি উঠেছে।

শনিবার রটন্তী চতুর্দশীকে কেন্দ্র করে এই উন্মাদনা চরম রূপ নেয়। ইউটিউবারদের দৌরাত্ম্য এবং কৌতূহলী মানুষের ভিড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক যাতায়াত দুষ্কর হয়ে পড়ে। প্রশ্ন উঠেছে, দক্ষিণেশ্বর, তারাপীঠ বা কালীঘাটের মতো সুপ্রাচীন তীর্থস্থানে যেখানে মানুষের অটুট বিশ্বাস রয়েছে, সেখানে কেন দেবীর নাম করে গয়না বা শাড়ি দাবি করার প্রয়োজন পড়ছে না? কেন কেবল এই নির্দিষ্ট মন্দিরটিকে কেন্দ্র করেই এমন অলৌকিকত্বের দাবি তোলা হচ্ছে, তা নিয়ে সরব হয়েছেন যুক্তিমনস্ক ও বিজ্ঞানচেতনায় বিশ্বাসী নাগরিকরা।

উল্লেখ্য, এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা চক্রটি আগেও সুকিয়া স্ট্রিটের শ্যামসুন্দরী কালীকে কেন্দ্র করে একই ধরণের রটনা ছড়িয়েছিল। সেই সময় প্রতিবাদী মানুষের চাপে তারা সেখান থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে প্রথমে কসবায় আস্তানা গেড়েছিল। এরপর মাস তিনেক আগে আমহার্স্ট স্ট্রিটের কাছে কার্তিক বসু স্ট্রিটে একটি বাড়ি কিনে সেখানে পুনরায় মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে নতুন করে এই বুজরুকির কারবার শুরু করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি চালানো হলেও বিশ্বাসের নামে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার এই প্রবণতায় উদ্বিগ্ন ওয়াকিবহাল মহল।

Related Articles