৪৪০ কোটির লেনদেন বন্ধ, তৃণমূলের ৩টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করল ব্যাঙ্ক
বিধাননগর দক্ষিণ থানায় ‘ঋতপন্থী’ ১০ তৃণমূল বিধায়কের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে
Truth of Bengal: তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হল। রাজ্য পুলিশের সাইবার সেলকে চিঠি দিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। সূত্রের খবর, ওই তিনটি অ্যাকাউন্টে মোট প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা রয়েছে। আপাতত কোনও অ্যাকাউন্ট থেকেই লেনদেন করা যাবে না। বিধাননগর দক্ষিণ থানায় ‘ঋতপন্থী’ ১০ তৃণমূল বিধায়কের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছিল, ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে থাকা টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত লেনদেন বন্ধ রাখা হোক। দিন কয়েক আগেই তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার দাবি জানিয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তাঁর সেই অবস্থানকে সমর্থন করেছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে কাটমানির টাকা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা উচিত। এরপরই শুক্রবার বিধাননগর দক্ষিণ থানায় ১০ জন ‘ঋতপন্থী’ বিধায়ক লিখিত অভিযোগ জানান।

অভিযোগের পর তদন্তে নামে সাইবার সেল। তারপরই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তিনটি অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বলে সূত্রের খবর। এর ফলে তৃণমূলের আর্থিক কার্যক্রমে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের মুখপাত্র তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “বিষয়টি জানি। খবরটা সত্যি। গোটা ঘটনাচক্রের উপর নজর রাখছি।” তৃণমূলের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ৫ জুন শুভাশিস চক্রবর্তীকে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। সেই তথ্য ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকেও চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। ফলে অরূপ বিশ্বাসের দাবি গ্রহণযোগ্য নয় বলেই দাবি দলের একাংশের। তৃণমূল সূত্রে খবর, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ায় সংগঠনিক কাজকর্মে কিছুটা সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে আপাতত সাংসদরা নিজেদের তহবিল থেকে কিছু অর্থ দলকে দিলে কাজ চালানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে নেতৃত্ব। একইসঙ্গে ব্যাঙ্কের এই সিদ্ধান্তকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হবে বলেও জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে ‘আসল তৃণমূল’ শিবিরের বিধায়ক সন্দীপন সাহা বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে লেনদেন হওয়া উচিত নয়। সেই কারণেই পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টে থাকা টাকার বৈধতা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। টাকার উৎস কী, তা সামনে আসুক।” উল্লেখ্য, নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই একের পর এক ধাক্কায় বেসামাল তৃণমূল। বিধানসভায় পরিষদীয় দল ভেঙে গিয়েছে। লোকসভাতেও সংসদীয় দলের বড় অংশ বিদ্রোহী শিবিরে চলে গিয়েছে। দলের প্রতীক কার হাতে থাকবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সেই লড়াইয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি গিয়ে স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে বিদ্রোহী সাংসদদের সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।






