জয়দেব মেলায় পুণ্যার্থীদের ঢল, প্রশাসনের তরফে আঁটোসাটো নিরাপত্তা
নবগ্রাম এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প, অস্থায়ী পঞ্চায়েত কার্যালয় এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্র।
Truth Of Bengal: সনাতন গরাই,দুর্গাপুর: মকরস্নানের ঠিক আগের দিন থেকেই জয়দেব মেলায় নেমেছে পুণ্যার্থীদের ভিড়। উদ্দেশ্য একটাই—কেঁদুলি ঘেঁষা অজয় নদে মকরস্নান সেরে শতাব্দীপ্রাচীন রাধাবিনোদ মন্দিরে পুজো দেওয়া। মকর সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে বীরভূমের ঐতিহ্যবাহী জয়দেব মেলায় লক্ষাধিক ভক্তের সমাগমের কথা মাথায় রেখে গোটা এলাকায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন।বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুণ্যার্থীরা কাঁকসার বিদবিহার নবগ্রামের অজয় ঘাট হয়ে মেলামুখী হচ্ছেন। এই পথকে প্রশাসনের তরফে বিশেষ নিরাপত্তা করিডর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজরদারিতে রয়েছে বীরভূম জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসনও।
নবগ্রাম এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প, অস্থায়ী পঞ্চায়েত কার্যালয় এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্র। মেলা ও সংলগ্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে আসানসোল–দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী। নিরাপত্তা জোরদার করতে বসানো হয়েছে পঞ্চাশেরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা। গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে ব্যারিকেড করা হয়েছে।অজয় নদের বিপজ্জনক অংশগুলিতে লাগানো হয়েছে সতর্কতামূলক বোর্ড।
পাশাপাশি ড্রোনের সাহায্যেও আকাশপথে নজরদারি চালানো হবে। নির্বিঘ্নে পুণ্যস্নান ও মেলা উপভোগ করতে যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসনের প্রস্তুতি এবার যথেষ্ট কড়া।বিদবিহার গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান গোপাল সরকার জানান, পঞ্চায়েতের তরফে নির্মল বাংলার একাধিক সচেতনতামূলক ব্যানার লাগানো হয়েছে। মেলায় আবর্জনা ছড়ানো রোধ ও অজয় নদ দূষণমুক্ত রাখতে পুণ্যার্থীদের সতর্ক করা হচ্ছে। পঞ্চায়েত সদস্যরা গোটা মেলা চত্বরের উপর নজরদারি চালাচ্ছেন এবং এই কাজে পুলিশ প্রশাসনের পূর্ণ সহযোগিতা মিলছে।সব মিলিয়ে, মকর সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে কেঁদুলির জয়দেব মেলায় পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য প্রশাসনের প্রস্তুতি এবার একেবারেই আঁটোসাটো।


