দেশ

“শৈত্যপ্রবাহ সাইলেন্ট কিলার! হার্ট, ফুসফুস ও কিডনির রোগীদের জন্য বড় বিপদ,” বিশেষ সতর্কবার্তা এইমস-এর ডাক্তারদের

শীতকালে হাসপাতালের বহির্বিভাগে শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ডাক্তারদের

Truth Of Bengal: উত্তর ভারতে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। সোমবার মরসুমের শীতলতম দিনটি কাটিয়েছে দিল্লি এবং উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। রাজধানীর একাধিক আবহাওয়া কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেছে, যা গত দুই বছরের মধ্যে জানুয়ারি মাসের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। উত্তর ভারতের এই তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আবহে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS)-এর চিকিৎসকরা এক বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছেন। তাঁদের মতে, এই প্রচণ্ড ঠান্ডায় হৃদরোগ, ফুসফুস, কিডনি এবং ডায়াবেটিসের মতো ক্রনিক সমস্যাগুলো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

হৃদরোগের ঝুঁকি ও হার্ট অ্যাটাক: এইইমস-এর কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডঃ রাজীব নারং জানিয়েছেন, শীতকালে শরীরের রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে যায়, ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। এছাড়া জল পানের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং খাদ্যে লবণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। হৃদরোগীদের জন্য তাঁর পরামর্শ, কনকনে ঠান্ডা এবং দূষণযুক্ত বাতাসে ভোরে হাঁটতে বের না হওয়াই ভালো। তিনি শীতকালীন এই শৈত্যপ্রবাহকে তাপপ্রবাহের মতোই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার জন্য প্রশাসনের কাছে ‘কোল্ড অ্যাকশন প্ল্যান’-এর আর্জি জানিয়েছেন।

ফুসফুসের সমস্যা ও শ্বাসকষ্ট: মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডঃ সঞ্জীব সিনহা ব্যাখ্যা করেছেন যে, সরাসরি ঠান্ডা বাতাস ফুসফুসে প্রবেশ করলে শ্বাসনালী সংকুচিত হয়ে যায়। এর ফলে অ্যাজমা বা সিওপিডি (COPD)-র রোগীদের শ্বাসকষ্ট, কাশি ও নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। শীতকালে হাসপাতালের বহির্বিভাগে শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ— খুব প্রয়োজন না হলে বাড়ির বাইরে বের না হওয়া, গরম পানীয় খাওয়া এবং পর্যাপ্ত গরম পোশাক ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।

ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগীদের সতর্কতা: এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডঃ রাজেশ খাড়গাওয়াত জানিয়েছেন, ঠান্ডার কারণে শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়ায় রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি রোগীদের ঘরের ভেতরেই যোগব্যায়াম বা হালকা শরীরচর্চা করার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে, কিডনি রোগীদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডঃ সন্দীপ মহাজন। তাঁর মতে, অতিরিক্ত লবণ ও প্রোটিন বর্জন করা এবং পালং বা সরিষা শাকের মতো পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

শিশু ও নবজাতকদের সুরক্ষা: শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ রাকেশ লোধা সতর্ক করেছেন যে, নবজাতক এবং ছোট শিশুদের শরীর বড়দের তুলনায় দ্রুত তাপ হারায়। ঠান্ডার কারণে শিশুরা অলস হয়ে পড়া, খাবার খেতে না চাওয়া বা শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগতে পারে। শিশুদের শরীরের তাপ ধরে রাখতে মাথা ঢেকে রাখা এবং পর্যাপ্ত উষ্ণতায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, চিকিৎসকদের বার্তা স্পষ্ট— শৈত্যপ্রবাহ কেবল একটি আবহাওয়ার পরিবর্তন নয়, এটি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ যা মোকাবিলায় ব্যক্তিগত সচেতনতা ও সরকারি পরিকল্পনা একান্ত প্রয়োজন।

Related Articles