স্ট্রুয়ার্টের যোগ্য উত্তরসূরী না পেলে আগামী দিনেও ভুগতে হবে বাগানকে
যেখানে আমার কাছে জেতা ছাড়া কোনও পথ খোলা নেই সেখানে এতটা রক্ষাত্মকভাবে কেন শুরু করল আপুইয়া, মনবীর বুঝে পেলাম না।
দেবাশিষ মুখোপাধ্যায়: গত শুক্রবার গোয়ার ফতোরদা স্টেডিয়ামে সুপার কাপের ডার্বি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হল। আমি আগেই বলেছিলাম এই ডার্বি ম্যাচে জিততে গেলে দুই দলকেই পেনিট্রেটিভ জোনে তৈরি হওয়া প্রাপ্ত সুযোগ থেকে গোল করতে হবে। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি কোনও দলই। তারফলেই ম্যাচটি গোলশূন্যভাবে শেষ হল।
ডার্বি ম্যাচের বিশ্লেষণ করতে গেলে, প্রথমেই আমি আসছি মোহনবাগানের কথায়। আমি এই ম্যাচেও অবাক হয়ে গেলাম মোলিনার ফুটবলারদের শরীরী ভাষা দেখে। যেখানে আমার কাছে জেতা ছাড়া কোনও পথ খোলা নেই সেখানে এতটা রক্ষাত্মকভাবে কেন শুরু করল আপুইয়া, মনবীর বুঝে পেলাম না। আসলে আমি আগেও বলেছি, মোলিনার দলে একজন বল দক্ষ স্কিমারের অভাব রয়েছে। সেটা ফের একবার প্রমাণিত হয়ে গেল ডার্বি ম্যাচে। যে কাজটা গত মরসুমে স্ট্রুয়ার্ট করতেন, এবার সেটা দেখা যাচ্ছে না। মাঝমাঠ থেকে স্ট্রাইকাররা যদি বল না পান তাহলে তাঁরা গোল করবেন কিভাবে এই সহজ প্রশ্নটা অবশ্যই ভাবা উচিত ছিল কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্টের। স্ট্রুয়ার্ট চলে যাওয়াতে তাঁর বদলি হিসেবে মোলিনা কামিন্সকে তৈরি করতে পারতেন। কেননা এই অজি খেলোয়াড়ের মধ্যে বল হোল্ড করে খেলার ক্ষমতা আছে। সেটা কেন কাজে লাগাচ্ছেন না বাগান কোচ, তা আমার মাথায় আসছে না কিছুতেই। আমি জানি না উনি কি চিন্তা-ভাবনা করছেন। এই প্রসঙ্গে আর একটা কথা বলতেই হবে, সেটা হল অনেক আশা নিয়ে রবসনকে নিয়ে অনেক আশা ছিল বাগান কর্তাদের। কিন্তু এখনও অবধি রবসন সেই আশা পূরণ করতে পারেননি। এবং মোলিনাকে একটা বিষয় মনে করিয়ে দিই, যদি তিনি রবসনকে স্ট্রুয়ার্টের বদলি হিসেবে ভেবে থাকেন, তাহলে বিপদে পড়তে হবে। কেননা এখন অবধি ব্রাজিলিয়ান নিজের জাত চেনাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
দ্বিতীয়ত কারণ হচ্ছে, মোলিনা কেন এটা বুঝতে পারছেন না, যেখানে ডেম্পো ম্যাচে পরে তাঁর খেলোয়াড়দের নামিয়ে জিততে পারলেন না, সেখানে ইস্টবেঙ্গল রক্ষণ ভেদ করা অত সহজ নয়। তা সত্ত্বেও উনি ওনার ছকেই দল খেলালেন। ফলে ফল তো ভুগতেই হবে। এবং হলও তাই।
এবার আসা যাক ইস্টবেঙ্গলের কথায়। চলতি বছরে অস্কারের দলের সবচেয় বড় সুবিধা হল, ডিফেন্ডারদের পাশাপাশি মাঝমাঠে রশিদ, মহেশ, বিপিন এবং মিগুয়েলের ছন্দে থাকা। এই জুটি আরও সেট হলে ইস্টবেঙ্গল হয়ত সাফল্য পাবে। কেননা রশিদ ও মিগুয়েল পুরো মাঝমাঠ জুড়ে বল হোল্ড করে খেলতে পারেন অনেকটা জায়গা নিয়ে। এই বিষয়টা অ্যাডভান্টেজ ইস্টবেঙ্গলের। এদের পাশে আছেন বিপিন। ছন্দে থাকলে তিনিও বিপদ বাড়াতে সক্ষম বিপক্ষ ডিফেন্ডারদের। কিন্তু লাল-হলুদের বিদেশি স্ট্রাইকারদের পারফরম্যান্স আমাকে হতাশ করেছে। হামিদ, হিরোশী আর কবে জেগে উঠবেন কে জানে? এদের ওপর বেশি ভরসা করা কখনই ঠিক হবে বলে আমার মনে হয় না।






