ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এবার পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ
এই বিশাল কর্মসূচি ঘোষিত হয় রবিবার কলকাতায় অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে।
Truth Of Bengal: কলকাতায় আগামী ৭ই ডিসেম্বর ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এক ঐতিহাসিক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মহাযজ্ঞ। সনাতন সংস্কৃতি সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত হতে চলেছে ৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ। এই বিশাল কর্মসূচি ঘোষিত হয় রবিবার কলকাতায় অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে। সনাতন সংস্কৃতি সংসদের সম্পাদক নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারী জানান, এবছরের গীতাপাঠ আয়োজনটি চতুর্থ বর্ষে পা দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে অংশ নিতে কারও জন্য কোনও নাম নথিভুক্তিকরণের প্রয়োজন নেই। গীতাপাঠ কমিটির অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানানন্দ মহারাজ জানিয়েছেন, এই আয়োজনের উদ্দেশ্য কোনও ধর্ম বা সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন নয়, বরং এটি বাংলার গৌরব ও ভারতীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে আরও সুদৃঢ় করা। ভগবদ গীতা কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম বা জাতির সম্পত্তি নয়—এটি সারা বিশ্বের মানুষের জন্য শান্তি, সম্প্রীতি এবং আত্মবিকাশের পথ।
সনাতন সংস্কৃতি সংসদের অপর এক অধ্যক্ষ স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকেও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু-সন্ন্যাসী ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরাও গীতাপাঠে অংশ নেবেন।
গত বছর, অর্থাৎ ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর, সনাতন সংস্কৃতি সংসদ, মতিলাল ভারত তীর্থ সেবা মিশন আশ্রম এবং অখিল ভারতীয় সংস্কৃত পরিষদের যৌথ উদ্যোগে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে শুরু হওয়া সেই অনুষ্ঠানে, সমবেত স্বরে গীতাপাঠ শুরু হয় কাজী নজরুল ইসলামের রচিত ‘হে পার্থসারথি, বাজাও বাজাও পঞ্চজন্য শঙ্খ’ গান দিয়ে। গীতার পাঁচটি অধ্যায় বেছে নেওয়া হয়েছিল পাঠের জন্য।
এই বছরের আয়োজনে এখনো পূর্ণ সূচি প্রকাশ না হলেও, আয়োজকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—এইবারের লক্ষ্য আগের বারের সংখ্যাকে অতিক্রম করা। লক্ষ নয়, এবার তাদের দৃষ্টি পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়ার দিকে।




