আন্তর্জাতিক

গাজায় শান্তির আশায় প্রথম পদক্ষেপ, চুক্তিতে সম্মত ইজরায়েল ও হামাস

তারা জানায়, ইজরায়েলের সেনা গাজার কিছু অংশ থেকে সরে যাবে, এবং তার বদলে হামাস আটক পণবন্দিদের মুক্তি দেবে।

Truth Of Bengal: গাজায় দীর্ঘদিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসানে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে প্রথম দফার শান্তিচুক্তিতে সম্মত হয়েছে ইজরায়েল ও হামাস। এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় দুই বছর ধরে চলা এই যুদ্ধের কারণে হাজার হাজার সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এবার এই সংঘাত থামার সম্ভাবনায় আশার আলো দেখছেন অনেকেই।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ লিখেছেন, “আমি গর্বিত যে গাজা শান্তিচুক্তির প্রথম ধাপে ইজরায়েল এবং হামাস একমত হয়েছে। এর অর্থ, হামাস প্যালেস্টাইনে আটক ইজরায়েলি পণবন্দিদের মুক্তি দেবে, আর ইজরায়েল গাজার নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে।” তিনি আরও জানান, এই চুক্তিকে আরব ও মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন এবং কাতার, মিশর ও তুরস্কের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলির ভূমিকাকেও ধন্যবাদ জানান।

হামাস এক বিবৃতিতে জানায়, গাজায় শান্তি ফিরিয়ে আনতেই তারা চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। তারা জানায়, ইজরায়েলের সেনা গাজার কিছু অংশ থেকে সরে যাবে, এবং তার বদলে হামাস আটক পণবন্দিদের মুক্তি দেবে। এই চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার। একই সঙ্গে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও জানিয়েছেন, এটি ইজরায়েলের জন্য একটি ‘বড় দিন’।

এই ঘোষণার পরই গাজার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের ছাপ দেখা যায়। অনেকেই রাস্তায় নেমে শান্তিপূর্ণ উদযাপন শুরু করেন। গাজার বাসিন্দা ৪৫ বছর বয়সি রান্ডা সামেহ বলেন, “আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না যে এই দুঃস্বপ্নের শেষ হতে চলেছে। আমরা অনেক কিছু হারিয়েছি, পরিবার, ঘর, স্বজন—সব কিছু।” আরেকজন বলেন, “আমার ভাই ও পরিবারের সদস্যরা এই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন। এবার অন্তত তাদের সঠিকভাবে কবর দেওয়ার সুযোগ পাবো।”

গাজায় যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে কিছুদিন আগে হোয়াইট হাউসে বৈঠক হয়। এরপরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ২০ দফা একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন, যেখানে যুদ্ধবিরতি, নতুন সরকার গঠন এবং গাজার পুনর্গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়। পরিকল্পনায় বলা হয়, সন্ত্রাসবাদমুক্ত গাজা গড়াই হবে মূল লক্ষ্য। প্রথম দফায়, চুক্তি অনুযায়ী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব পণবন্দিদের (জীবিত ও মৃত) মুক্তি দিতে হবে, এবং ইজরায়েলি কারাগার থেকে বন্দিদেরও মুক্তি দেওয়া হবে। এরপরই শুরু হবে আন্তর্জাতিক ত্রাণ কার্যক্রম, যা রাষ্ট্রসংঘ ও রেড ক্রসের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।

প্রায় দুই বছর ধরে চলা এই সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৬০ হাজার মানুষ, যাদের বেশিরভাগই সাধারণ নিরীহ গাজাবাসী। আহতের সংখ্যা দেড় লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। তার চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে খাদ্য সংকটে। অনাহারে ইতিমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের, যাদের অধিকাংশই শিশু। শুধুমাত্র জুলাই মাসেই অনাহারে মারা গেছে ৪০ জন, এর মধ্যে ১৬ জন শিশু। এমনকি ত্রাণ শিবিরে খাবার আনতে গেলেও গুলি ছোড়ার অভিযোগ রয়েছে।

এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে ইজরায়েল ও হামাসের এই শান্তিচুক্তি আশা জাগিয়েছে বিশ্ববাসীর কাছে। অনেকে মনে করছেন, এই চুক্তি যদি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়, তবে গাজায় অবশেষে ফিরে আসবে স্বস্তির নিঃশ্বাস এবং বহু প্রতীক্ষিত শান্তি।