দেশ

“আশেপাশের প্রানীদের যত্ন নিন”, পথকুকুর নিয়ে সুপ্রিম রায়ের মাঝে ভাইরাল প্রধানমন্ত্রীর ভিডিয়ো

প্রাণীকল্যাণ সংগঠনগুলি এখন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং যে সহমর্মিতার কথা বলেছিলেন, সেটিকেই যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করে আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করছে।

দিল্লি-এনসিআরের পথকুকুর (Stray Dogs) অপসারণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া রায়ের মধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি পুরনো ভিডিয়ো। সেই ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, কোভিড-১৯ এর সময়কালে লকডাউন চলাকালীন দেশের নাগরিকদের নিজেদের চারপাশের পথপ্রাণীদের যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

ভিডিয়োটিতে প্রধানমন্ত্রীকে বলছেন, “আপনার আশেপাশের প্রাণীদের নিয়ে ভাবতে হবে। লকডাউনের কারণে বহু প্রাণীর সামনে খাদ্যের সংকট তৈরি হয়েছে। আমি সবাইকে অনুরোধ করছি, আশেপাশের প্রাণীদের যত্ন নিন।”

প্রাণীকল্যাণ সংগঠনগুলি এখন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং যে সহমর্মিতার কথা বলেছিলেন, সেটিকেই যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করে আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করছে। তারা বলছে, এই নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাণীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ইনস্টাগ্রামে ওই ভিডিয়ো শেয়ার করে ‘স্ট্রিট ডগস অব বম্বে’ লিখেছে— “@officialrekhagupta জি, দিল্লির প্রশাসন কেন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ @narendramodi মানছে না? মুখ্যমন্ত্রী এখনও নীরব কেন? কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছেন না কেন?”

তারা আরও লিখেছে, “দিল্লি থেকে পথকুকুর (Stray Dogs) সরানোর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ হাজার হাজার নিরীহ প্রাণের জীবনের ওপর হুমকি সৃষ্টি করছে। এরা কোনও ‘সমস্যা’ নয়, এরা আমাদের রাস্তাঘাট, পাড়া ও সহমর্মিতা ভাগ করে নেওয়া জীবন্ত প্রাণী। অপসারণ কোনও সমাধান নয়; নৈতিকভাবে নির্বীজন, টিকাকরণ ও কমিউনিটি কেয়ারই সমাধান। আসুন, আমরা একজোট হয়ে দিল্লির পথপ্রাণীদের রক্ষা করি, প্রাণীর অধিকার রক্ষা করি এবং মানবিক বিকল্পের দাবি জানাই।”

ভারতের প্রধান বিচারপতি বি. আর. গাভাই বুধবার, ১৩ আগস্ট জানিয়েছেন, তিনি অবিলম্বে এই অপসারণের নির্দেশের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি আবেদন খতিয়ে দেখবেন। কারণ একজন আইনজীবী এর বৈধতা ও পূর্ববর্তী রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

মামলাটি বৃহস্পতিবার তিন বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা এবং এন. ভি. আঞ্জারিয়ার বেঞ্চে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। ২৮ জুলাইয়ের স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় কুকুরের (Stray Dogs) কামড়ানোর ঘটনা বাড়ার কথা উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট পথকুকুর অপসারণ ও আশ্রয়কেন্দ্র সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছিল, যাতে সরানো প্রাণীগুলিকে রাখা যায়। এই রায় দেন দুই বিচারপতির বেঞ্চ, বিচারপতি জে. বি. পারদিওয়ালা ও আর. মহাদেবন।

যেখানে কিছু বাসিন্দা এই নির্দেশকে জননিরাপত্তার জন্য জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। প্রাণীকল্যাণ কর্মীরা বলছেন এটি গোপন হত্যা বা গোপন নিধনের পথ খুলে দিতে পারে, যা প্রধানমন্ত্রীর পথপ্রাণীদের যত্ন নেওয়ার আহ্বানের সঙ্গে মেলে না।

Related Articles