দেশ

প্রকাশ্যে পাহেলগাঁও-এ ভয়াবহ জঙ্গি হামলার প্রথম দৃশ্য, দেখুন ভিডিয়ো

First footage of the horrific terrorist attack in Pahelgaon is released, watch the video

Truth Of Bengal: সম্প্রতি দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওর ঐতিহাসিক বৈসারণ উপত্যকায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় প্রিয়জনদের হারানো বহু পরিবার এখনও শোকে আচ্ছন্ন। বেঁচে যাওয়া অনেকেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে বলেন, কীভাবে তাঁরা ওই নির্মম হামলা থেকে প্রাণ নিয়ে পালিয়েছিলেন।

লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে যুক্ত তিন থেকে চারজন জঙ্গির একটি দল ওই এলাকায় ঢুকে পর্যটকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এই ঘটনায় অন্তত ২৮ জন নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by CHINTU KASHYAP (@photozoneland)

সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, যখন পর্যটকরা তাঁদের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছিলেন তখন জঙ্গিরা কীভাবে গুলি চালায় তাদের উপর। একটি ভিডিয়োতে হামলার মুহূর্তটি স্পষ্ট ধরা পড়েছে—গুলির শব্দ ও আতঙ্কিত পর্যটকদের চিৎকারও শোনা যাচ্ছে।

‘এটা মোদীকে গিয়ে বল’, বেঁচে যাওয়া একজনকে জঙ্গি বলেছিল

বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা তাঁদের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন। তাঁদের একজন জানান, জঙ্গিরা তাঁর স্বামীকে হত্যা করার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম উল্লেখ করেছিল। পল্লবী নামের এক মহিলা, যিনি তাঁর স্বামী মঞ্জুনাথকে হারিয়েছেন, জানান, তিনি এবং তাঁর ১৮ বছর বয়সী ছেলে সেই জঙ্গিকে সামনে থেকে মোকাবিলা করেন এবং অনুরোধ করেন তাঁদেরও মেরে ফেলতে। কিন্তু জঙ্গি নাকি বলেছিল, সে তাঁকে হত্যা করবে না, যাতে সে মোদীকে এই হামলার কথা বলতে পারে।

গণমাধ্যমে পল্লবী বলেন, “আমরা পাহেলগামে এসেছি, আর আমার স্বামী আমার চোখের সামনে মারা গেল। আমি কাঁদতেও পারিনি, কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে পারিনি—কী ঘটে গেছে, সেটাই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আমি কর্ণাটকের শিবমোগা থেকে আমার স্বামী মঞ্জুনাথ এবং ছেলে অভিজেয়র সঙ্গে এখানে এসেছিলাম।”

“আমাদের গাড়ির চালক ছিলেন একজন ভাল মানুষ। তিনি আমাকে বলেন যে হিন্দুদের টার্গেট করা হচ্ছিল। তিনজন ব্যক্তি, যারা ‘বিসমিল্লাহ’ বলছিলেন, আমাদের নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যান। আমি চাই আমার স্বামীর মরদেহ বিমানে করে নিয়ে যাওয়া হোক। আমরা তিনজন একসঙ্গে ফিরতে চাই,” তিনি আরও বলেন।

“আমি লক্ষ্য করলাম, ওখানে তিন-চারজন আক্রমণকারী ছিল। আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর আমি এক জঙ্গির মুখোমুখি হয়ে বলি, ‘আমার স্বামীকে মেরেছো না, আমাকেও মারো’। আমার ছেলেও তাকে বলে, ‘কুত্তে, আমার পাপাকে মেরে ফেলেছিস, আমাকেও মেরে ফেল,'” তিনি স্মৃতিচারণ করেন।

Related Articles