রাজ্যের খবর

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বানচাল করার চেষ্টা করছে কিছু চক্র, সেচমন্ত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগ

Some groups are trying to sabotage the Ghatal Master Plan, Irrigation Minister makes explosive allegations

Truth Of Bengal: কেন্দ্রের সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি। তাই মানুষের দুর্দশা দূর করতে রাজ্য নিজের ক্ষমতায় এগিয়ে এসেছে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান রূপায়ণে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে অবশেষে এবছরের রাজ্য বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর অন্যতম একটা স্বপ্নের প্রকল্প এই মাস্টার প্ল্যান। সেই প্ল্যান বানচাল করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে কিছু চক্র। এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী ডাঃ মানস ভুঁইয়া। তবে সেচমন্ত্রীর দাবি, যত‌ই চক্রান্ত হোক না কেন, দীর্ঘদিনের জল যন্ত্রণা কাটাতে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান কার্যকর করা হবে।

জমি হারানোর ভয়ে এই প্রকল্পে জমি না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বেশ কিছু মানুষ। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া বলেন, ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বানচাল করার চেষ্টা করছে কিছু মানুষ। কিন্তু দায়িত্ব নিয়ে বলছি মুখ্যমন্ত্রীর এই স্বপ্নের প্রকল্প হবেই।’ জমির প্রসঙ্গে সেচমন্ত্রী বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী তো বলেই দিয়েছেন কার‌ও কাছ থেকে জোর করে জমি নেওয়া হবে না। প্রকল্পের জন্য যেখানে জমি লাগবে সেখানে বাজার দরের থেকে আড়াই গুণ বেশি দাম দিয়ে জমিদাতার অনুমতি নিয়েই কাজ করা হবে।’ তবে দাসপুর সহ কিছু এলাকায় জমিদাতাদের আপত্তির বিষয়টি দেখার জন্য স্থানীয় বিধায়ক মমতা ভুঁইয়া-সহ স্থানীয় তৃণমূল নেতা আশিস হুদাইত, সুকুমার পাত্র ও সুনীল ভৌমিককে দেখতে বলেছেন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া।

ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের দাবি কয়েক দশকের পুরনো। এই নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের টানাপোড়েনও চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে আরামবাগে একটি প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, কেন্দ্র সাহায্য না করলে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের কাজ রাজ্যই করবে। সেই মঞ্চে ছিলেন ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দেব। মানুষের সামনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী।

বছরের পর বছর ধরে বৃষ্টিতে বানভাসি হওয়া ঘাটালবাসীর কাছে চেনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ, কেন্দ্রের অসহযোগিতায় দীর্ঘদিন আগে এই পরিকল্পনা তৈরি থাকলেও বাস্তবায়ন থেকে বঞ্চিত রয়ে গিয়েছে। এবার মিটবে ঘাটালবাসীর সমস্যা। আর তাঁদের বানভাসি হতে হবে না। ইতিমধ্যে প্রাথমিক কাজকর্মের অনেকটা হয়েও গিয়েছে। এবার বাজেটে সেই পরিকল্পনাকে দ্রুত বাস্তবায়নের সময়সীমা স্থির করে নির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ করা হল। বরাদ্দ হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা। আগামী ২ বছরের মধ্যে কাজ শেষ হবে। বাজেটের পর সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে ১৫০০ কোটি টাকা খরচ হবে। আমরা ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি। আগে ৩৪০ কোটি টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। ডিপিআর অনুযায়ী কাজ হবে।’

এই প্রকল্পে কিছু জমি লাগবে। যে জমি নিতে হবে এলাকার মানুষের কাছ থেকে। তবে কারও কাছ থেকে জোরপূর্বক জমি নেওয়া হবে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। তারপরও এলাকার কিছু মানুষ এই প্রকল্পে জমি না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এলাকাবাসী তো বটেই প্রকল্প এলাকার আশপাশে যাদের জমি আছে তাঁদের সবাই চান দ্রুত এই প্রকল্প কার্যকর হোক। সবার যখন এমন চাওয়া তখন কিছু মানুষ কেন জমি দিটে আপত্তি জানাচ্ছেন তা বোঝা যাচ্ছে না। কোনও শক্তি তাঁদের ভুল বোঝাচ্ছে কিনা এই প্রশ্নও উঠছে। তবে সেচমন্ত্রী জানিয়েছেন সব বাধা কাটিয়ে দ্রুত এই প্রকল্প রূপায়ণ করা হবে।

Related Articles