স্বদেশেই বিদেশী! আতঙ্কের বাংলাদেশে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন বাংলাদেশিরা
Foreigners in their own country! Bangladeshis are afraid to return to a panic-stricken Bangladesh
Truth Of Bengal: ৭১-র মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন দেশ গড়ার জন্য রক্ত দিয়েছিলেন বাংলাদেশের সব বাঙালি। ৫২-র ভাষা আন্দোলনে সালাম-রফিক-বরকত-জব্বরদের সুরে সুর মিলিয়েছিলেন ওঁদের পূর্বপুরুষরা। শেখ মুজিবরের সেই চেনা দেশ এখন বদলে গেছে । স্বদেশে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন ওপার বাংলার নাগরিকরা। ভাবছেন ফিরলে হামলা হবে না তো ? জীবন যাবে না তো ? ভয়ে সিঁটিয়ে থাকা মানুষগুলোর মনের কথা শুনলে আপনিও অবাক হবেন। অশান্ত বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে বাংলা জাগোর একটি বিশেষ প্রতিবেদন।
ভাষার ভিত্তিতে একটি দেশের জন্ম সারা বিশ্বের বাঙালিদের কাছে আলাদা আবেগ বয়ে আনে। বাঙালির অখণ্ড সত্তায় যেন আঘাত হানতে উদ্ধত বাংলাদেশের মৌলবাদী শক্তি। তাঁরা এখন ভারতবিরোধিতার জিগির তুলছে। এমনই ভুরি ভুরি অভিযোগের মাঝে দেখা গেল,বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখতে ভয় পাচ্ছেন সেদেশের মানুষ।
তাঁদের বুকে ভয়,মুখে শঙ্কা।বুঝে উঠতে পারছেন না,যেদেশের জন্য তাঁদের পূর্বপুরুষরা ৭১-র মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের খান সেনাদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন।যে ভাষার ভিত্তিতে দেশ গড়ার জন্য ৫২-র ভাষা আন্দোলনে রক্ত দিয়েছিলেন তাঁদের দেশের সব বাঙালিরা।
সালাম, রফিক, বরকত, জব্বরদের জীবনের বিনিময়ে যে দেশ দুনিয়ার কাছে ভাষাভিত্তিক গর্বের রাষ্ট্র হয়ে ওঠে, সেই দেশে কী এমন এল তাঁরা সীমান্ত পেরোতে গেলেই হামলার আতঙ্কে আতঙ্কিত? কেন এভাবে বাংলাদেশকে অশান্তির কিনারায় দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে? হতবাক ওপারের বাঙালিসমাজ।
বাংলাদেশে ফের অস্থির পরিস্থিতিতে পেট্রাপোল বন্দরে বাংলাদেশিদের লম্বা লাইন। মেডিক্যাল ভিসায় যারা চিকিৎসা করাতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছিলেন তাঁরা দেশে ফিরছেন। তাঁরাই বলছেন বাংলাদেশের অবস্থা একেবারে ভালো নয়। হিন্দুদের উপরে হামলা হচ্ছে, হামলা হচ্ছে জামাত, বিএনপির বিরোধীদের ওপর। কিছু বাংলাদেশ বিরোধী শক্তি আসলে দেশের ধর্মনিরেপক্ষতা, একতা আর বাঙালির ঐক্যের শিকড়ে আঘাত করতে চাইছে।
এই উপলব্ধি নিয়েই স্বদেশ-স্বজাতির মানুষের কোলে ফিরতে মরিয়া ওঁরা। কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে মানবতার বিরোধী ধর্মান্ধদের ধর্মস্থানে হানা বা ধর্মপ্রাণ মানুষের মাথায় আঘাত হানার নিন্দনীয় কাজ। যিনি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মাথায় সেই মহম্মদ ইউনুস এখন দিশেহারা। অর্থনীতির জগতে কাজ করা এই মানুষটি শান্তি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।এখন তিনি শান্তি বজায় রাখতে পারছেন না, পদ্মাপারের এই শান্ত, অতিথিপরায়ণ দেশটির। বাঙালি সমাজ তাই ইউনুসের সরকারের অব্যবস্থা ও শান্তি রক্ষায় ব্যর্থতার জন্য ধিক্কার জানাচ্ছে। দুই পারের বাঙালিদের মতোই সাগরপারের বাঙালিরাও এখন মানবিকতার খাতিয়ে সোচ্চার হচ্ছেন।






