
The Truth of Bengal: একটা সময় বাংলার একটু সম্ভ্রান্ত পরিবারের মহিলাদের বাহন ছিল পালকি। গ্রামের মেঠোপথ ধরে মাইলের পর মাইল হেঁটে নববধূকে শ্বশুরালয়ে নিয়ে যেতেন বেহারারা। আবার পরিবারের বধূদের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হলে ভরসা ছিল পালকি। বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছিল এই বাহন। সেই পালকি আমাদের শিল্প-সাহিত্যে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিল। সেই সব দিন আজ অতীত। যান্ত্রিক বাহন চলে আসায় কালের গহ্বরে হারিয়ে গিয়েছে পালকি।
একসময় আমাদের দেশের জাতি, ধর্মবর্ণ, ধনী-গরিব সবার কাছে সমান পছন্দের বাহন ছিল পালকি। তখন আবার সব পরিবারে পালকি ছিল না। বিত্তশালী, জমিদার ও উচ্চবংশীয় লোকদের প্রত্যেকের বাড়িতে পালকি ছিল। সে সময় পালকি বংশের মর্যাদার প্রতীক হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। নিম্নবিত্ত পরিবারের লোকদের বাড়িতে পালকি ছিল না। তাই তাদের জন্য ছিল অন্য ব্যবস্থা। তারা বিভিন্ন প্রয়োজনে পালকি ভাড়া করা হতো অর্থ বা কড়ির বিনিময়ে। সেই দিনগুলি আজ ইতিহাসে ঠাই নিয়েছে।
যারা গান গাইতে গাইতে কাঁধে করে পালকি নিয়ে যেতেন সেই বেহারারা আজ পেশা হারিয়ে অন্য পেশায় গিয়েছেন।পালকি বাহকদের কথা তুলে ধরে পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে ‘অণুপৃথিবী’-র উদ্যোগে সম্মান প্রদান করা হল। প্রায় ৩০ জন পালকিবাহককে সম্মান প্রদান করা হয়৷কয়েক বছর ধরে ‘অণুপৃথিবী’ সংস্থা সমাজের অবহেলিত পেশার সঙ্গে যুক্তদের সম্মান দিয়ে আসছে। এবার দেওয়া হল পালকি বাহক সম্মাননা। হারিয়ে যাওয়া পেশার মানুষরা সম্মান পেয়ে খুশি।
Free Access






