দেবব্রত বাগ, ঝাড়গ্রাম: Truth Of Bengal: কম খরচে দ্বিগুণ লাভ, এই সমীকরণেই এবার ভাগ্য ফিরছে জঙ্গলমহলের কৃষকদের। ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর ব্লকের কৃষকদের মুখে এখন হাসি(Farming)। ধান কিংবা অন্য ফসলের পরিবর্তে এবার তাঁরা ঝুঁকছেন লাভজনক বাদাম চাষে। বিশেষত সুবর্ণারেখা নদীর পলিমাটি এবং চর জেগে ওঠা বালিমাটিতে বাদাম চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পাচ্ছেন চাষিরা।
রাজ্য সরকারের কৃষি বিভাগ থেকে উন্নত প্রজাতির কাদরী লেপাক্সি বাদাম বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। এই বীজে ফলন বেশি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও ভালো। (Farming) গোপীবল্লভপুর-সহ জেলার একাধিক ব্লকে এই বাদাম চাষ শুরু হয়েছে। স্থানীয় কৃষক সত্যব্রত গিরির কথায়, “অন্যান্য ফসলের তুলনায় এই বাদাম বীজে লাভ অনেক বেশি। সরকার যদি সময়মতো বীজ দিত, তাহলে ফলন আরও ভালো হত।”
জেলার কৃষি আধিকারিকদের তরফেও জানানো হয়েছে, বিকল্প চাষে চাষিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। বাদাম, তিল, মৌচাষ, মাছ চাষ, সবজি ও ছাতু চাষ—বিভিন্ন দিকেই এগোচ্ছেন জঙ্গলমহলের কৃষকরা।
এ বছর গোপীবল্লভপুর ব্লকের একাধিক গ্রামে বাদামের চাষ ব্যাপক হারে বেড়েছে। শুধু নিজেদের ব্যবহারের জন্য নয়, ভিন রাজ্যেও পাঠানো হচ্ছে উৎপাদিত বাদাম। বাজারে ভালো দাম পেয়ে খুশি কৃষকরা। চাষিরা বলছেন, ধান চাষে যেখানে খরচ বেশি কিন্তু লাভ কম, সেখানে বাদাম চাষে লাভ অনেকটাই বেশি(Farming)। এক হেক্টর জমিতে ২০-২২ কুইন্টাল বাদাম উৎপন্ন হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বালিমাটি বাদাম চাষের জন্য আদর্শ। যেখানে ধান কিংবা আনাজ ফলানো যায় না, সেখানেই বাদাম চাষ করে বাড়ছে আয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনিক বৈঠকে বারবার কৃষিতে বিকল্প চাষের উপর জোর দিয়েছেন। সেই নির্দেশ মেনেই বাদাম চাষে নতুন সম্ভাবনার দিশা দেখছে ঝাড়গ্রাম জেলা।