শেষ যাত্রায় মিলবে সম্মান ও স্বস্তি! ৩০ লক্ষের ভোলবদলে চেনা দায় দুর্গাপুরের বীরভানপুর মহাশ্মশান
এখন আর শেষ বিদায় জানাতে এসে মানুষকে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না
সনাতন গড়াই, দুর্গাপুর: এক সময় শ্মশানে পা রাখলেই শুরু হতো ভোগান্তি। প্রিয়জনের দেহ নিয়ে আসা পরিবারকে খুঁজতে হতো বসার জায়গা। মাথার ওপর ছাউনি নেই, পর্যাপ্ত আলো নেই—রাত নামলেই চারপাশ ঢেকে যেত ঘন অন্ধকারে। গরমে অসহনীয় তাপ, অস্বস্তিকর পরিবেশ—সব মিলিয়ে শেষ যাত্রার পথ হয়ে উঠত আরও কষ্টকর। বিশেষ করে দুর্গাপুরের বীরভানপুর মহাশ্মশানে দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্যার অভিযোগ উঠছিল।
পশ্চিম বর্ধমান ও বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ এখানে শবদেহ দাহ করতে আসেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর অভাবে শোকাহত পরিবারগুলিকে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হতো।অবশেষে ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে দুর্গাপুর নগর নিগম-এর উদ্যোগে বীরভানপুর মহাশ্মশানকে আধুনিক রূপ দেওয়া হল। তৈরি হয়েছে সুনির্মিত প্রতীক্ষালয়, উন্নত আলোকসজ্জা, পানীয় জলের সুব্যবস্থা এবং সুষ্ঠ পরিকাঠামো। পুরো প্রাঙ্গণকে করা হয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল।
এখন আর শেষ বিদায় জানাতে এসে মানুষকে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না। শোকের মুহূর্তে অন্তত ন্যূনতম সম্মান ও স্বস্তি মিলছে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা। দুর্গাপুর নগর নিগমের প্রশাসক মণ্ডলীর চেয়ারপার্সন অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, শ্মশান শুধু একটি পরিকাঠামো নয়, এটি মানুষের জীবনের শেষ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িত একটি সংবেদনশীল স্থান। এখানে যেন কোনও পরিবারকে অমানবিক পরিস্থিতির মুখে না পড়তে হয়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। বীরভানপুর মহাশ্মশানকে আধুনিক রূপ দেওয়া সেই মানবিক দায়বদ্ধতারই অংশ। ভবিষ্যতেও নাগরিক পরিষেবা আরও উন্নত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।নতুন রূপে সজ্জিত এই মহাশ্মশান এখন এলাকার মানুষের কাছে অনেকটাই স্বস্তির জায়গা হয়ে উঠেছে।






