মাছ চাষে দেশকে পথ দেখাচ্ছে বাংলা, বাড়তি মাছ ভিনরাজ্যে পাঠানোর প্রয়াস
Bengal is leading the country in fish farming, efforts are being made to send extra fish to foreign countries

The Truth Of Bengal : বাঙালিকে পেট ভরে মাছ খাওয়ানোর পরেও ভিনরাজ্যে মাছ রফতানি করছে পশ্চিমবঙ্গ। তথ্য বলছে, ২০২৩-২৪অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১৭লক্ষ মেট্রিক টন মাছ ও প্রায় সাড়ে বাইশ মিলিয়ন মাছের পোনা উত্পাদন করেছে। গতবছরের তুলনায় মাছের উত্পাদন এগারো শতাংশের বেশি বেড়েছে। মাছ চাষ বাড়াতে বাড়ানো হচ্ছে জলাশয়। মাছ ধরে যাঁরা সকলের স্বাদপূরণ করেন তাঁদের জন্য এবার বাজেটে চালু করা হয়েছে সমুদ্রসাথী প্রকল্প। যে সময়ে মত্সজীবীদের কাজ থাকে না সেইসময়ে মাসিক ৫হাজার টাকা করে অনুদানও দেওয়া হচ্ছে।
কথায় বলে,মত্স্য ধরিব খাইব সুখে। মাছে ভাতে বাঙালির স্বাদ বাহারে বরাবরই জায়গা করে নিয়েছে এই চিরন্তন পদ।নিরামিষ ভোগীরা ছাড়া প্রায় কমবেশি সবাই অন্ততঃ পাতে এক টুকরো মাছ খোঁজেন।একথা মাথায় রেখে মাছের চাষ বাড়ানো থেকে মাছ বিপণন,সবের সুবিধা করে দিতে এগিয়ে এসেছে রাজ্য সরকার। নতুন নতুন প্রযুক্তিতে চাষ করার জন্য মৎস্যজীবীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন অফিসাররা। প্রশিক্ষণকেন্দ্রেই থাকে গবেষণাগার। চাষি যেখানে মাছ চাষ করবেন, সেই পুকুর বা জলাশয়ের মাটি ওই গবেষণাগারেই পরীক্ষা করে দেখে সেই মতো চাষের পদ্ধতি ও কৌশল নেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশমতো মত্স বিপণনের কাজ যে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে তাতে এই বাংলায় রেকর্ড করতে চলেছে তা একপ্রকার মেনেই নিচ্ছে মত্সজীবীদের সংগঠন। এরমধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে মাছ- উত্পাদনে এই পশ্চিমবঙ্গ শীর্ষে ছিল।রোজগারমুখী এই মত্সচাষকে রাজ্যের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। বর্তমান বছরের বাজেটে দেওয়া পরিসংখ্যানে স্পষ্ট,
- ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গে ১৬.৮০লক্ষ মেট্রিক টন মাছ উত্পাদন হয়েছে
- ২২, ২৬৫ মিলিয়ন মাছের পোনা উত্পাদিত হয়েছে
- গত বছরের তুলনায় এবার মাছের উত্পাদন প্রায় ১১শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে
মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন,নোনা জলের মত্স্য প্রজাতির মোট রফতানির ৭০শতাংশ হয়।এবং সেই অনুযায়ী মাছ চাষের উপর জোর দিতে বাগদা চিংড়ির একক চাষে ৪৫.৪৬লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১০৯টি ভেড়ি এবং ৬০.৭৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১৭০টি ভেনামি চিংড়ির ভেড়ির কাজে হাতে নেওয়া হয়েছে। কি ভাবে বাড়ছে মাছের উত্পাদন ? কোনপথে বাংলা মত্সচাষের মাস্টার ক্লাসে পৌঁছে যাচ্ছে ? একদিকে স্বাদু জলের জলাশয় খনন আর জৈবপদ্ধতিতে মাছ চাষের চিন্তাধারা চিরন্তন মত্সপ্রেমীদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে।এরমধ্যে প্রশাসনের দেওয়া তথ্য মোতাবেক,জলধরো জল ভরো প্রকল্পে পুকুর খননের কাজ জোরদার হয়েছে।কেন্দ্র ১০০দিনের কাজের টাকা মেটাতে বিলম্ব করায় রাজ্যে পুকুর ও জলাশয় খননে অর্থ বরাদ্দ করেছে।তাই জলাশয় বোজানো রুখে দিয়ে আর অন্যদিকে পুকুর খননের কাজ তরান্বিত করে জোড়া সাফল্যের পথ খুলে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। মত্স্য চাষে নিযুক্ত বাংলার মত্স্যজীবীদের মান এবং বিভিন্ন পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বঙ্গ মত্স্য যোজনা কার্যকর করা হচ্ছে।এই প্রকল্পে ২৭টি কাজ অনুমোদন পেয়েছে,আরও প্রায় ৫০০ জন সুবিধাপ্রাপক উপকৃত হয়েছেন। পূর্ব কলকাতা থেকে উত্তর২৪পরগনা,দক্ষিণ ২৪পরগনায় সমবায় ভিত্তিক মত্স চাষ,বাজারে মাছের জোগান বাড়াচ্ছে।পূর্বমেদিনীপুরের নয়াচরে ফিসারি হাব আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের দিগন্ত খুলে দিয়েছে। একদিকে মত্সজীবীদের ভাতা আর অন্যদিকে সমুদ্রসাথীর মাধ্যমে দুই ২৪পরগনা,ও পূর্ব মেদিনীপুরের মত্সজীবীদের বছরে দুবার ৫হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান,মত্সচাষে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে।রাজ্য সরকারের আশা, আগামীদিনে মত্স্য উত্পদানে বাংলা স্বনির্ভর হওয়ার পাশাপাশি ভারতের আর পাঁচটা রাজ্যে ফিশারি কালচার বাড়াতে সাহায্য করবে।কাঁচা টাকা উপার্জন থেকে খাদ্যের বাহার বাড়ানো,সব কাজই সুচারুভাবে করার জন্য রাজ্যের মত্স্য দফতর সুপরিকল্পনাও নিচ্ছে।
FREE ACCESS






