বহরমপুরে অধীরের প্রচারে তুলকালাম! তৃণমূল-কংগ্রেস খণ্ডযুদ্ধ, মেজাজ হারিয়ে চরম হুঁশিয়ারি
ভোটপ্রচারকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের বহরমপুর।
Truth of Bengal: ভোটপ্রচারকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের বহরমপুর। শনিবার সকালে বহরমপুর শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটপ্রচার করতে গিয়ে তৃণমূল এবং কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীর প্রচারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বচসা মুহূর্তের মধ্যে হাতাহাতির রূপ নেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়।
কংগ্রেস শিবিরের অভিযোগ, অধীর চৌধুরী ওই এলাকায় প্রচারে আসবেন জেনে আগে থেকেই স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলরের নেতৃত্বে একদল যুবক সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। কংগ্রেস কর্মীরা পৌঁছনো মাত্রই অধীর চৌধুরীকে লক্ষ্য করে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়। পাল্টা স্লোগান দিতে শুরু করেন কংগ্রেস সমর্থকরাও। দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে শুরু করে হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। নিরাপত্তার খাতিরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ দ্রুত অধীর চৌধুরীকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। এই ঘটনার পর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ অধীর চৌধুরী তৃণমূল সমর্থকদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল হারার ভয়ে ভীত হয়েই এই ধরণের বাধা সৃষ্টি করছে। মানুষের কাছে প্রচার করতে গেলে বাধা দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
অন্যদিকে, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর ভীষ্মদেব কর্মকার পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেস প্রার্থীর বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, তৃণমূলের কর্মীরা নিয়মমাফিক পাড়ায় বেরিয়েছিলেন। কিন্তু অধীর চৌধুরী একদল বহিরাগতকে নিয়ে এসে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস প্রার্থীর সঙ্গে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়েছে। এলাকায় মানুষই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছেন এবং তাঁকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেছেন। তৃণমূলের মতে, হারানো জমি ফিরে পেতে অধীর চৌধুরী এখন আতঙ্কের রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন।
প্রসঙ্গগত, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের ইউসুফ পাঠানের কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন অধীর চৌধুরী। দীর্ঘ ৩০ বছর পর ১৯৯৬ সালের সেই চেনা লড়াইয়ে ফিরতে এবার বিধানসভা নির্বাচনের ময়দানে নেমেছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবারই নিজের মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে জোরকদমে প্রচার শুরু করেছেন এই প্রবীণ কংগ্রেস নেতা। তবে প্রচারের শুরুতেই এই ধরণের সংঘর্ষের ঘটনা বহরমপুরের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত অধীর চৌধুরী তাঁর হারানো রাজনৈতিক জমি পুনরুদ্ধার করতে পারেন কি না, এখন সেটাই দেখার।






