রাজ্যের খবর

“হিসেব নেওয়ার আপনি কে?” নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুকে কড়া আক্রমণ অভিষেকের

সেবাশ্রয়ের অর্থের উৎস নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশ্নের জবাবে নাম না করে তাঁকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন অভিষেক।

Truth of Bengal: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর খাসতালুক নন্দীগ্রামেই দাঁড়িয়ে সেবাশ্রয় কর্মসূচি নিয়ে প্রকাশ্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রামের দু’টি ব্লকে সেবাশ্রয়ের সূচনা করে মঞ্চ থেকেই তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা—মানুষ সুযোগ দিলে নন্দীগ্রামে প্রতি বছরই সেবাশ্রয় হবে। সঙ্গে হুঁশিয়ারি, “কারও বুকের পাটা থাকলে আটকে দেখাক।” সেবাশ্রয়ের অর্থের উৎস নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশ্নের জবাবে নাম না করে তাঁকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন অভিষেক। বলেন, “হিসেব নেওয়ার আপনি কে? হিসেব নেবে হাইকোর্ট, ইনকাম ট্যাক্স। ক্ষমতা থাকলে মামলা করুন। কেশাগ্র স্পর্শও করতে পারবেন না।” এখানেই থামেননি তিনি। কটাক্ষের সুরে যোগ করেন, “বুক ঠুকে বলছি, প্রতি বছর নন্দীগ্রামে ১৭টা ক্যাম্প করব। আর শুভেন্দু অধিকারী থেকে তাঁর পরিবারের লোকজনও সেবাশ্রয়ে এসে চিকিৎসা করাবেন।”

কেন নন্দীগ্রামেই সেবাশ্রয়—এই প্রশ্নের উত্তরে অভিষেক জানান, গত অক্টোবরে ‘অভিষেক হেল্পলাইন’-এ সবচেয়ে বেশি ফোন এসেছিল নন্দীগ্রাম থেকেই। তাঁর দাবি, এই এলাকায় তৃণমূলের কোনও সাংসদ বা বিধায়ক নেই বলেই মানুষের প্রত্যাশা আরও বেশি। “ওদের ফিরিয়ে দেওয়া যায় না,” বলেন তিনি। একই সঙ্গে ঘোষণা করা হয়, নন্দীগ্রামে একটি মডেল সেবাশ্রয় ক্যাম্প গড়ে তোলা হবে এবং দু’টি ব্লকে ডায়মন্ড হারবারের ধাঁচে আরও ১৭টি ক্যাম্প আয়োজন করা হবে। প্রয়োজনে বালুরঘাটেও—যা বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের নির্বাচনী ক্ষেত্র—এমন সেবাশ্রয় হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন অভিষেক।

ডায়মন্ড হারবারের পর নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয়ের আয়োজন ঘিরে বিজেপির বিরুদ্ধে পোস্টার ছেঁড়ার অভিযোগ ওঠে। এ প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, “যাঁরা হোর্ডিং-ব্যানার ছিঁড়ছেন, তাঁদের পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে।” পাশাপাশি দাবি করেন, নিজের এলাকায় বিরোধীরা এমন কর্মসূচি করলে তিনি ‘রেড কার্পেট’ পেতে স্বাগত জানাতেন। কর্মসূচি শেষে সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ শানান অভিষেক। কমিশনকে বিজেপির ‘সহকারী সংস্থা’ বলে কটাক্ষ করে তাঁর প্রশ্ন, “লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি শুধু বাংলাতেই কেন? সেই তালিকা প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না কেন?” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই এই দাবি তুলেছেন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তালিকা প্রকাশ না হলে আন্দোলন হবে—আর সেই আন্দোলন আটকানোর ক্ষমতা কারও নেই।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আরও একধাপ এগিয়ে অভিষেক বলেন, “আন্দোলন এখনও শুরু হয়নি। শুরু হলে কমিশন বুঝবে বাংলার মাটির ক্ষমতা।” তাঁর দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ৮২ জনের মৃত্যুর দায় এড়াতে পারেন না মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বিএলওদের ইস্তফা দিতে বলা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আগে কমিশনেরই ইস্তফা দেওয়া উচিত। সঙ্গে চ্যালেঞ্জ—“ক্ষমতা থাকলে আমার নামে এফআইআর করুন।” এসআইআর প্রসঙ্গে অভিষেকের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও রিসোর্স না থাকায় বিএলওদের উপর অস্বাভাবিক চাপ পড়ছে, যার ফলেই আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, “আমরা এসআইআর-এর বিরোধী নই। হোক, কিন্তু সময় নিয়ে, পরিকল্পনা করে।”

শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয়ের খবর পেয়ে তিনি নভেম্বর মাসে কয়েক দিনের জন্য একটি স্বাস্থ্যশিবির করেছিলেন, পরে তা বন্ধও করে দেন। পোস্টার দেখার পর আবার নতুন করে শিবির করা হয় বলেও তাঁর অভিযোগ। “ছ’ বছর বিজেপিতে থেকে কী এনে দিয়েছেন?”—এই প্রশ্ন তুলে পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রসঙ্গ টানেন তিনি। কেরলে নিহত ভীমচন্দ্র বারিকের পরিবারের পাশে বিজেপি দাঁড়ায়নি বলেও অভিযোগ করেন অভিষেক। তাঁর দাবি, পাশে ছিল একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেস।

Related Articles