অফবিট

বৈদ্যুতিক স্তম্ভ বদলে গেল ব্ল্যাকবোর্ডে, স্কুলের পড়ুয়াদের শিক্ষাদানে পথ দেখাচ্ছে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রাম

দেউলবাড়ি গ্রামের স্কুল পড়ুয়ারা এখন রাস্তার পাশে থাকা বৈদ্যুতিক স্তম্ভের লেখা পড়ে ইংরেজি অক্ষরের পাশাপাশি প্রাথমিক স্তরের গণিত যেমন, যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ, ইত্যাদি শিখতে পাচ্ছে।

Truth of Bengal: গ্রামের নামটি ভারী সুন্দর, দেউলবাড়ি। সুন্দরবনের কুলতলি ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রাম দেউলবাড়ি। বাংলার আর পাঁচটা গ্রামের চেয়ে আলাদা নয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই প্রত্যন্ত গ্রাম। কিন্তু গ্রামের স্কুল পড়ুয়াদের অভিনব উপায় শিক্ষাদানে পথ দেখাচ্ছে সুন্দরবনের দেউলবাড়ি গ্রাম। অভিনব উপায় গ্রহণ করে গ্রামোন্নয়ন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন দিশা দেখাচ্ছে দেউলবাড়ি গ্রাম। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রাম থেকে পায়ে হেঁটে কলকাতায় আসার পথে রাস্তার পাশে থাকা মাইলফলক দেখে ইংরেজি অক্ষর শিখেছিলেন। দেউলবাড়ি গ্রামের স্কুল পড়ুয়ারা এখন রাস্তার পাশে থাকা বৈদ্যুতিক স্তম্ভের লেখা পড়ে ইংরেজি অক্ষরের পাশাপাশি প্রাথমিক স্তরের গণিত যেমন, যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ, ইত্যাদি শিখতে পাচ্ছে।

দেউলবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা পুলক মণ্ডল গ্রামের রাস্তার পাশে বৈদ্যুতিক স্তম্ভের গায়ে নোংরা, আবর্জনার স্তূপ পড়ে থাকতে দেখেন। নিজের গ্রামকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে নিজেই গ্রামের রাস্তার পাশে বৈদ্যুতিক স্তম্ভ রঙ তুলি হাতে রঙ করতে শুরু করেন। এভাবেই আজ দেউলবাড়ি গ্রামের রাস্তার পাশে থাকা ৪০-৪৫টা কনক্রিটের বৈদ্যুতিক স্তম্ভ রঙ করার পর তাতে বর্ণপরিচয়ের বিভিন্ন লাইন, বাংলা ও ইংরেজি অক্ষর, যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ, নামতা আঁকা হয়েছে। শিক্ষা কখনো বইয়ের পাতায় পুঁথিগত ভাবে আটকে থাকতে পারে না। তাই গ্রামের স্কুলের পড়ুয়াদের মনে পড়াশোনার প্রতি আরও বেশি আকর্ষণ তৈরি করতে গ্রামের বাসিন্দারা তাদের গ্রামে থাকা বৈদ্যুতিক স্তম্ভগুলিকেই ব্ল্যাকবোর্ডে পরিণত করেছেন।

চার দেওয়ালের ভেতরে শিক্ষা আটকে নেই। গ্রামের বৈদ্যুতিক স্তম্ভই আজ ছোটোখাটো স্কুল হয়ে উঠেছে। পরিবেশবান্ধব উপায় লেখাপড়ার প্রতি আকর্ষণ জন্মাচ্ছে গ্রামের স্কুল পড়ুয়াদের মনে। অভিভাবকরাও ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রাম দেউলবাড়ি আজ গোটা বাংলার সামনে আদর্শ হয়ে উঠেছে।

Related Articles