ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা, একাধিক পদক্ষেপের উল্লেখ মুখ্যমন্ত্রীর
তাঁর জন্মতিথিকে রাজ্যে সরকারি ছুটি হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছে।
Truth Of Bengal: রাজবংশী সমাজের মহান পথপ্রদর্শক ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা-র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বার্তায় তিনি এই প্রবাদপ্রতিম মনীষীর প্রতি বিনম্র প্রণাম জানিয়ে রাজবংশী সমাজের উন্নয়নে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজবংশী সংস্কৃতির বিকাশ এবং ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করতে সরকার দায়বদ্ধ। তাঁর সম্মানে কোচবিহারে পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর জন্মস্থান খলিসামারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস চালু হয়েছে। তাঁর বাসভবন সংস্কার করে ‘পঞ্চানন বর্মা সংগ্রহশালা ও গবেষণাকেন্দ্র’ গড়ে তোলা হয়েছে এবং সেখানে তাঁর পূর্ণাবয়ব মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। তাঁর জন্মতিথিকে রাজ্যে সরকারি ছুটি হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজবংশী সমাজের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী ‘নারায়ণী সেনা’র স্মরণে রাজ্য পুলিশে বিশেষ ‘নারায়ণী’ ব্যাটেলিয়ন গঠন করা হয়েছে।
রাজবংশী ভাষাকে সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি কামতাপুরী, সাঁওতালী, কুরুখ, কুড়মালী, নেপালী, হিন্দি, উর্দু, পাঞ্জাবী ও তেলুগু ভাষাকেও সরকারি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সাদরি ভাষার উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজবংশী সমাজের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি রক্ষায় রাজবংশী ডেভেলপমেন্ট বোর্ড, রাজবংশী কালচারাল একাডেমি, রাজবংশী ভাষা একাডেমি এবং কামতাপুরী ভাষা একাডেমি গঠন করা হয়েছে। প্রায় ২০০টি রাজবংশী স্কুলকে সরকারি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এছাড়া কোচ-রাজবংশী বীরত্বের প্রতীক বীর চিলারায়-এর স্মরণে কোচবিহারের বাবুরহাটে তাঁর ১৫ ফুট উঁচু ব্রোঞ্জের মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। তাঁর জন্মদিনে উত্তরবঙ্গে সরকারি ছুটিও ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।
কোচ-কামতাপুরী-রাজবংশী ঐতিহ্যের গুরুত্ব বিবেচনা করে সমগ্র কোচবিহার শহরকে ‘হেরিটেজ সিটি’ হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।






