কলকাতা

“এবার আমরা খাব কী?” রাস্তায় শুয়ে আইসিটি কম্পিউটার শিক্ষকদের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে তুমুল ধস্তাধস্তি!

৩ হাজার ৭১৯ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল! এজেন্সির প্রথার বলি হয়ে বিকাশ ভবনের সামনে অবরুদ্ধ রাস্তা

Truth of Bengal: উৎসবের মরশুমে যেখানে রাজ্যজুড়ে আনন্দ ও বোনাসের আবহাওয়া, ঠিক তখনই চাকরি হারানোর চরম অন্ধকারে ঢেকে গেল রাজ্যের প্রায় পৌনে চার হাজার চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকের ভবিষ্যৎ। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজের চুক্তি শেষ হওয়া এবং এজেন্সি থেকে সরাসরি ‘টার্মিনেশন লেটার’ বা ছাঁটাইয়ের চিঠি হাতে পাওয়ার প্রতিবাদে সোমবার রাজপথে নামলেন ক্ষুব্ধ শিক্ষকেরা। করুণাময়ী থেকে শুরু হওয়া তাঁদের বিকাশ ভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে সল্টলেকে তৈরি হল উত্তপ্ত ও ধুন্ধুমার পরিস্থিতি।

সোম সকালে করুণাময়ী মোড়ে হাজার হাজার আইসিটি (ICT) কম্পিউটার শিক্ষক সংগঠিত হয়ে ব্যানার হাতে বিকাশ ভবনের দিকে মিছিল করে এগোতে থাকেন। মিছিল প্রশাসনিক ভবন বিকাশ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছতেই বিশাল পুলিশবাহিনী লোহার ব্যারিকেড দিয়ে পথ অবরুদ্ধ করে দেয়। ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তুমুল ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন শিক্ষকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা পিচ রাস্তাতেই শুয়ে পড়ে কান্না ও ক্ষোভে ফেটে পড়েন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে এলাকায় কঠোর পুলিশি বেষ্টনী তৈরি করা হয়। পুলিশের তরফে মাইকিং করে সংযম বজায় রাখার বার্তা দেওয়া হলেও আন্দোলনকারীরা সাফ জানান, সরকারি উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা এসে দাবি না মানা পর্যন্ত তাঁরা স্থান ছাড়বেন না।

ভুক্তভোগী শিক্ষকদের আন্দোলনকারী সংগঠন আইসিটি ঐক্য মঞ্চ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সমস্যায় পড়েছেন মূলত ষষ্ঠ এবং সপ্তম ফেজের মোট ৩,৭১৯ জন আইসিটি ইনস্ট্রাকটর বা শিক্ষক। বিগত পাঁচ বছর ধরে তাঁরা ওয়েবেল স্কুল নেট কিংবা এক্সট্রা মার্কের মতো বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে স্কুলে স্কুলে কম্পিউটার শিক্ষা দিয়ে আসছেন। ৩০ সেপ্টেম্বরের পর উক্ত সংস্থাগুলির সঙ্গে রাজ্য সরকারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এবং নতুন টেন্ডার ডাকার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। কিন্তু তার আগেই এজেন্সিগুলির তরফে সমস্ত পুরনো কম্পিউটার শিক্ষককে বরখাস্তের নোটিস ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের তীব্র ক্ষোভ, ১ থেকে ৫ ফেজের আইসিটি শিক্ষকেরা দীর্ঘদিন রাজপথে লড়াই চালিয়ে সরকারি স্বীকৃতি অর্থাৎ ‘গভর্নমেন্ট কন্ট্রাকচুয়াল কর্মী’র মর্যাদা লাভ করেছেন এবং স্থায়ীকরণের সুবিধা পাচ্ছেন। অথচ দীর্ঘ সেবা সত্ত্বেও ৬ষ্ঠ ও ৭ম ফেজের শিক্ষকদের এখনো শোষক এজেন্সি প্রথার অন্ধকারে ফেলে রাখা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে মধ্যস্বত্বভোগী এজেন্সি প্রথা বাতিল করে শিক্ষা দফতরকে সরাসরি ৩,৭১৯ জন শিক্ষককে সরকারি চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে পুনর্বহাল করতে হবে। আগের সরকারের দেওয়া বেতন বৃদ্ধির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং বর্তমান প্রশাসনিক অনীহার মুখে দাঁড়িয়ে শিক্ষদের এই বাঁচা-মরার লড়াই বিকাশ ভবন চত্বরকে পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রেখেছে।