মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর বিধানসভাতেই আলাদা ঘর পেল ‘কালীঘাট তৃণমূল’
এদিন বিধানসভার অধিবেশন কক্ষের আসন বিন্যাসেও এক নজিরবিহীন ও তাৎপর্যপূর্ণ রদবদল চোখে পড়ে।
Truth of Bengal: বিধানসভা অধিবেশনের প্রথম দিনেই এক বড়সড় রাজনৈতিক স্বস্তি পেল ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবির। এবার থেকে রাজ্য বিধানসভার অন্দরে তাদের শিবিরের বিধায়কদের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা বসার ঘর এবং অধিবেশন চলাকালীন নিজস্ব বক্তব্য পেশ করার জন্য পৃথক সময় বরাদ্দ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক হাইপ্রোফাইল মুখোমুখি বৈঠকের পর এই ইতিবাচক অগ্রগতির কথা প্রকাশ্যে আনেন প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের অন্যতম শীর্ষ নেতা কুণাল ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রীর ঘর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমরা আমাদের কিছু সুনির্দিষ্ট সংসদীয় বিষয় ও দাবিদাওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এসেছিলাম। উনি আমাদের যথেষ্ট সম্মান দেখিয়েছেন। আমাদের বিধানসভায় বসার জায়গা, আলাদা ঘরের ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে ওঁর সঙ্গে বিস্তারিত ও সদর্থক কথা হয়েছে।”
এদিন বিধানসভার অধিবেশন কক্ষের আসন বিন্যাসেও এক নজিরবিহীন ও তাৎপর্যপূর্ণ রদবদল চোখে পড়ে। হাউসের প্রবীণতম বিধায়ক হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে অধিবেশন কক্ষে চিরাচরিত বিরোধী দলনেতার আসনটি তাঁর জন্যই বরাদ্দ করা হয়। অন্যদিকে, স্পিকারের সিলমোহর থাকা সত্ত্বেও ‘বিদ্রোহী’ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বসার জায়গাটি রাখা হয় মূল আসন থেকে কিছুটা দূরে। নতুন এই আসন বিন্যাস ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় চরম স্বস্তি প্রকাশের পাশাপাশি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে অত্যন্ত কড়া ভাষায় বিঁধেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। চরম ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “আজ আমাদের হামাগুড়ি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যেতে হয়নি, কিংবা ঘরের বাইরে চাতকের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়নি। আমরা ওই ‘চাটন ঋত’র (ঋতব্রত) কাছ থেকে করুণা করে কোনও সময় চাইব না। অনৈতিকভাবে যারা দলকে পিছন থেকে ছুরি মারে, তাদের আমরা দলনেতা বলে কোনও অবস্থাতেই মানি না এবং মানবও না।”
জানা গিয়েছে, এই বৈঠক চলাকালীনই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষকে নিজের ঘরে ডেকে নেন এবং ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবিরের বিধায়কদের সংসদীয় কাজকর্ম পরিচালনার জন্য অবিলম্বে একটি পৃথক বসার ঘরের বন্দোবস্ত করার কড়া নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অধিবেশনে যেন তাঁরা নিজেদের বক্তব্য রাখার পূর্ণ সুযোগ পান, তার জন্য আলাদা সময় বরাদ্দের কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকের শেষে কুণাল ঘোষ জানান, সদ্য তৈরি হওয়া নতুন রাজ্য সরকারকে কাজ করার জন্য তাঁদের কিছুটা সময় দেওয়া উচিত। তবে এই মুহূর্তের অন্যতম জ্বলন্ত সামাজিক সমস্যা ‘বুলডোজার দিয়ে হকার উচ্ছেদ’ নিয়ে তাঁরা ইতিমধ্যেই বিধানসভায় সরব হয়েছেন এবং বিষয়টি খোদ মুখ্যমন্ত্রীকেও অবগত করেছেন। সব মিলিয়ে প্রথম দিনের এই হাইভোল্টেজ আলোচনা যে অত্যন্ত সদর্থক ও ফলপ্রসূ হয়েছে, তা দুই তৃণমূল নেতাই একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন।






