তথ্য সুরক্ষা নিয়ে আপস নয়! হোয়াটসঅ্যাপকে চরম হুঁশিয়ারি সুপ্রিম কোর্টের!
ভারতীয় সংবিধান মেনে চলতে না পারলে সংস্থাটি দেশ ছেড়ে চলে যেতে পারে।
Truth of Bengal: মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপের গোপনীয়তা সংক্রান্ত নীতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল দেশের শীর্ষ আদালত। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে কোনো প্রকার আপস করা হবে না। মেটা কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ভারতীয় সংবিধান মেনে চলতে না পারলে সংস্থাটি দেশ ছেড়ে চলে যেতে পারে।
২০২১ সালে হোয়াটসঅ্যাপ যে নতুন গোপনীয়তা নীতি চালু করেছিল, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানিতে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বাণিজ্যিক স্বার্থে অপব্যবহার করছে হোয়াটসঅ্যাপ। সরকারের এই যুক্তিকে মান্যতা দিয়ে আদালত জানায়, আন্তর্জাতিক নিয়ম বা ইউরোপের নিয়মের দোহাই দিয়ে ভারতের নাগরিকদের তথ্য ফাঁস করা যাবে না। ইউরোপ এবং ভারতের গোপনীয়তা রক্ষার নিয়ম যে সম্পূর্ণ আলাদা, তাও মনে করিয়ে দেয় আদালত। শুনানি চলাকালীন হোয়াটসঅ্যাপের আইনজীবী যুক্তি দেন যে, তথ্য আদান-প্রদান শুধুমাত্র মেটার অভ্যন্তরীণ কাজের জন্যই করা হয়। তবে এই যুক্তি খারিজ করে দিয়ে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, একজন সাধারণ মানুষ যিনি আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেন, তাঁর পক্ষে হোয়াটসঅ্যাপের এই জটিল নথি বোঝা কি আদেও সম্ভব? তথ্য বিনিময়কে কোনোভাবেই বাণিজ্যিক লাভের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় শীর্ষ আদালত।
মঙ্গলবার একটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারি করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত হোয়াটসঅ্যাপ বা মেটা ব্যবহারকারীদের কোনো তথ্যই প্রকাশ্যে আনতে পারবে না। একইসঙ্গে তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা নিয়ে সংস্থা দুটির অবস্থান ঠিক কী, তাও আদালতকে বিস্তারিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল ল ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে হোয়াটসঅ্যাপ যে আবেদন করেছিল, এদিন তাও খতিয়ে দেখে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।






