মাদভি হিডমার মৃত্যুর পর মাওবাদী নেতারা আত্মসমর্পণের পথে
এর জন্য ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাওবাদী দমন অভিযান স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
Truth Of Bengal: দীর্ঘ কয়েক দশকের সশস্ত্র আন্দোলনের পর এবার ইতি টানতে চলেছে মাওবাদী আন্দোলন। অন্ধ্রপ্রদেশে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে শীর্ষ নেতা মাডভি হিডমা নিহত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সংগঠনের পক্ষ থেকে আত্মসমর্পণের সংকেত মিলল। মহারাষ্ট্র, ছত্তিশগড় এবং মধ্যপ্রদেশ এই তিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়ে মাওবাদী নেতৃত্ব জানিয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে তারা অস্ত্র-সহ আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এর জন্য ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাওবাদী দমন অভিযান স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিটি লিখেছে সিপিআই (মাওবাদী)-এর মহারাষ্ট্র,মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় স্পেশ্যাল জোনাল কমিটি। ২২ নভেম্বর তারিখের ওই চিঠিতে সই করেছেন কমিটির মুখপাত্র অনন্ত। তিনি লিখেছেন, সরকারের পুনর্বাসন প্রকল্প গ্রহণ করতে প্রস্তুত আমরা। তবে দলের নীতি অনুযায়ী সব শাখার সঙ্গে আলোচনা করে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময় প্রয়োজন। তাই ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অভিযান স্থগিত রাখা হোক।গত সপ্তাহেই অন্ধ্রপ্রদেশে নিরাপত্তাবাহিনী হিডমাকে নিকেশ করে। তাকে কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম শক্তিশালী নেতার মুখ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তার মৃত্যুর পর সংগঠনের নেতৃত্বে সংকট দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। ফলে আত্মসমর্পণের এই ইঙ্গিত আন্দোলনের দুর্বলতা প্রকট করেছে বলেই মত তাঁদের।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে তাঁরা ‘পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি সপ্তাহ’ (২–৮ ডিসেম্বর) পালন করবেন না।গোপন সূত্রের ভিত্তিতে কোনও অভিযান না-চালানোর অনুরোধ করেছেন তাঁরা।আগামী তিন মাসের মধ্যে গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতার নীতি মেনে সকল সদস্যের মতামত নিয়ে অস্ত্র ত্যাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদী নেটওয়ার্ক নির্মূল করা হবে। অনন্ত চিঠিতে দাবি করেছেন, তাঁদের চাওয়া সময় এই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই রয়েছে, তাই তিন রাজ্যের সরকার সংযম দেখালে আত্মসমর্পণ সহজ হবে।গত কয়েক মাসে মাওবাদী প্রভাবিত এলাকাগুলিতে বহু শীর্ষনেতা আত্মসমর্পণ করেছেন। তেলঙ্গানায় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পুল্লুরি প্রসাদ রাওয়ের আত্মসমর্পণের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছেন অনন্ত।মাওবাদী নেতৃত্বের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্রীয় সরকারের মাওবাদ-বিরোধী নীতির বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। জল-জঙ্গল-মাটির অধিকারের প্রশ্নে শুরু হওয়া আন্দোলন ক্রমেই গণবিরোধী ও দুর্বল হয়ে পড়েছিল বলেই নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মত। এবার তা কার্যত সমাপ্তির দিকেই এগোচ্ছে বলে অনুমান।






