দেশ

দেশজুড়ে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল! ইউপি-তে গ্রেফতার আইসিস জঙ্গি রিজওয়ান

সূত্রের খবর, মূলত তরুণদের মগজধোলাই করে ‘জেহাদি’ কার্যকলাপে যুক্ত করার দায়িত্বে সক্রিয় ছিলেন তিনি।

Truth of Bengal: ইসলামিক স্টেট (আইসিস) জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে উত্তরপ্রদেশে আরও এক যুবককে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের নাম রিজওয়ান আহমেদ। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এবং উত্তরপ্রদেশ সন্ত্রাস দমন শাখা (এটিএস)-এর যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লিতে নিয়ে আসা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, রিজওয়ান ভারতে বড়সড় হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। ২০১৫ সাল থেকেই তাঁর সঙ্গে আইসিস-এর যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান। সূত্রের খবর, মূলত তরুণদের মগজধোলাই করে ‘জেহাদি’ কার্যকলাপে যুক্ত করার দায়িত্বে সক্রিয় ছিলেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালেই জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগে রিজওয়ানকে একবার গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই সময় কিছুদিন হাজতবাসও হয়েছিল তাঁর। তবে পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান বলে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি গোপন সূত্রে খবর পেয়ে উত্তরপ্রদেশের কুশীনগর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতের ডেরা থেকে উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র, বোমা তৈরির সামগ্রী, গোপন নথিপত্র এবং ‘জেহাদি’ সাহিত্য— এমনটাই দাবি তদন্তকারীদের। পুলিশের অনুমান, এই উদ্ধার হওয়া সামগ্রী বড়সড় নাশকতার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, দেশে ফের সন্ত্রাস ছড়ানোর ছক কষেছিল আইসিস-এর একটি মডিউল। তবে পুলিশের তৎপরতায় শেষ মুহূর্তে সেই পরিকল্পনা বানচাল হয়েছে।

এদিকে গত মাসেই উত্তরপ্রদেশ থেকে আইসিস যোগে এক চিকিৎসা পড়ুয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ধৃত ১৯ বছরের ওই যুবকের নাম হরিশ আলি। তিনি সাহারানপুর জেলার বাসিন্দা এবং বিডিএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। এটিএস সূত্রে দাবি করা হয়েছিল, হরিশ ইন্টারনেট এবং বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে আইসিস-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে তিনি আইসিস-এর মতাদর্শে প্রভাবিত হন এবং ভার্চুয়াল মাধ্যমে জঙ্গি প্রশিক্ষণের প্রাথমিক ধাপেও ঢুকে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ। বর্তমানে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া রিজওয়ান আহমেদের সঙ্গে হরিশ আলির কোনও যোগ রয়েছে কি না। গোটা ঘটনার পিছনে বড় কোনও অনলাইন নেটওয়ার্ক বা সক্রিয় স্লিপার সেল রয়েছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। পুলিশ সূত্রের মতে, এই গ্রেফতারের মাধ্যমে দেশে সম্ভাব্য বড়সড় নাশকতা রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

Related Articles