গাঁজা খেয়ে নেশায় বুঁদ ইঁদুর? বিষয়টা কী?
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালের অক্টোবর মাস থেকে ২০২৩ সালের জুলাই মাসের মধ্যে গুজরাট পুলিশ মোট ৬৫১০.৫৪ কেজি গাঁজা বাজেয়াপ্ত করেছিল।
Truth of Bengal: গুজরাটে পুলিশের হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা গায়েব হওয়াকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সম্প্রতি বিধানসভায় পেশ করা কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা সিএজি-র রিপোর্টে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেখানে দাবি করা হয়েছে, পুলিশি পাহারায় থাকা প্রায় ২৩০০ কেজি গাঁজার হদিস মিলছে না। এই মাদক গায়েব হওয়ার পিছনে ইঁদুর, চোর এবং খারাপ আবহাওয়াকে দায়ী করেছে রাজ্য প্রশাসন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালের অক্টোবর মাস থেকে ২০২৩ সালের জুলাই মাসের মধ্যে গুজরাট পুলিশ মোট ৬৫১০.৫৪ কেজি গাঁজা বাজেয়াপ্ত করেছিল। নিয়মানুযায়ী এর মধ্যে ৪১৭৭.৮৬ কেজি মাদক ধ্বংস করা হলেও বাকি ২৩৩২.৬৮ কেজি গাঁজা মালখানা থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ বাজেয়াপ্ত করা মোট মাদকের প্রায় ৩৫ শতাংশেরই কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এই বিপুল পরিমাণ মাদক কীভাবে নিখোঁজ হলো, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনটি বিচিত্র কারণ দেখিয়েছে গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এর মধ্যে ১৪৪.১৮০ কেজি গাঁজা চুরি হয়ে গিয়েছে। এছাড়া একটি বড় অংশ ইঁদুরে খেয়ে ফেলেছে বলে দাবি করা হয়েছে। বাকি মাদকদ্রব্য আর্দ্র আবহাওয়া বা বৃষ্টির কারণে নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগেও বিহার ও ঝাড়খণ্ডে পুলিশি হেফাজত থেকে মাদক গায়েব হওয়ার পিছনে ইঁদুরকে দায়ী করার ঘটনা ঘটলেও, নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের রাজ্যে এই ঘটনা সামনে আসায় বিরোধীরা সরব হয়েছেন।
রাজ্যের বিরোধী দলগুলি প্রশাসনের এই সাফাই মানতে নারাজ। তাদের অভিযোগ, ইঁদুরের দোহাই দিয়ে আসলে বিশাল অঙ্কের দুর্নীতি ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিরোধীদের দাবি, পুলিশের একটি প্রভাবশালী অংশ এই বাজেয়াপ্ত করা মাদক গোপনে কালোবাজারে পাচার করে দিয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সরকারি মালখানা থেকে গাঁজা সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং দায় এড়াতে এখন ইঁদুর ও আবহাওয়ার ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে ইঁদুরের গাঁজা খাওয়ার এই তত্ত্বকে কেন্দ্র করে গুজরাটে এখন রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে।






