দেশ

ঝাড়খণ্ডে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স বিপর্যয়! রেডার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ভেঙে পড়ে বিমান, মৃত ৭

খারাপ আবহাওয়ার কারণে চালক যাত্রাপথ পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিলেন, কিন্তু এর কিছু পরেই সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে রেডার থেকে চিরতরে হারিয়ে যায় বিমানটি।

Truth Of Bengal: ঝাড়খণ্ডে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স দুর্ঘটনায় সাত জন আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোমবার রাতে রাঁচী থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে ঝাড়খণ্ডের ছাতরা জেলায় ‘রেডবার্ড এয়ারওয়েজ়’-এর একটি মেডিক্যাল চার্টার্ড বিমান ভেঙে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা আশঙ্কাজনক রোগী, চিকিৎসক, বিমানকর্মী-সহ সাত জনেরই প্রাণহানি ঘটেছে। অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ামক সংস্থা ডিজিসিএ-র প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে বিমানটি রাঁচী থেকে ওড়ার কিছুক্ষণ পরেই কলকাতা এটিসি-র সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। খারাপ আবহাওয়ার কারণে চালক যাত্রাপথ পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিলেন, কিন্তু এর কিছু পরেই সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে রেডার থেকে চিরতরে হারিয়ে যায় বিমানটি। বারাণসী থেকে ১০০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে শেষবার এর অবস্থান শনাক্ত করা গিয়েছিল।

দুর্ঘটনার কবলে পড়া ওই এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে ৪১ বছর বয়সি সঞ্জয় কুমার নামের এক ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তাঁর শরীরের ৬৩ শতাংশ আগুনে পুড়ে গিয়েছিল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন চিকিৎসক বিকাশ কুমার গুপ্ত, প্যারামেডিক সচিন কুমার মিশ্র এবং অর্চনা দেবী ও ধীরু কুমার নামে আরও দুই ব্যক্তি। বিমানটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন দুই চালক সবরাজদীপ সিংহ এবং বিবেক বিকাশ ভগত। ছাতরার দুর্ঘটনাস্থল থেকে ইতিমধ্যেই সাতটি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার ভয়াবহতায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল।

ঠিক কী কারণে এই বিপর্যয় ঘটল, তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। রাঁচী বিমানবন্দরের ডিরেক্টর বিনোদ কুমার জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে প্রতিকূল আবহাওয়াকেই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো সমস্যা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তকারী সংস্থা এএআইবি-র (AAIB) একটি প্রতিনিধি দল দুর্ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরেই আকাশপথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্টভাবে জানা যাবে।