৩৭ বছরের দীর্ঘ লড়াই, অবশেষে ঘুষের অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেন টিকিট পরীক্ষক
সেই সময়ে রেলের ভিজিল্যান্স আধিকারিকরা আচমকা কোচে অভিযান চালান এবং তাঁর কাছ থেকে অতিরিক্ত ১২৫৪ টাকা পাওয়া যায়।
Truth Of Bengal: একজন টিকিট পরীক্ষক (TTE)-এর বিরুদ্ধে যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। ৩৭ বছর পর সুপ্রিম কোর্ট সেই অভিযোগ থেকে তাঁকে মুক্তি দিয়েছে। তবে আদালতের এই রায় টিকিট পরীক্ষক ভি এম সওদাগর নিজে দেখতে পাননি, কারণ কয়েক বছর আগে তাঁর মৃত্যু হয়ে গেছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত তাঁর পরিবারকে যাবতীয় আর্থিক সুবিধা এবং পেনশন প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালের ৩১ মে দাদার-নাগপুর এক্সপ্রেসের স্লিপার কোচের তিন যাত্রীর কাছ থেকে তিনি মোট ৫০ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই সময়ে রেলের ভিজিল্যান্স আধিকারিকরা আচমকা কোচে অভিযান চালান এবং তাঁর কাছ থেকে অতিরিক্ত ১২৫৪ টাকা পাওয়া যায়। এর পর রেলের বিভাগীয় তদন্তের ভিত্তিতে ১৯৯৬ সালে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় ভি এম সওদাগরকে।
বরখাস্তের পর সওদাগর Central Administrative Tribunal (CAT)-এ মামলা করেন। CAT রেলের বরখাস্তের নির্দেশ বাতিল করে দেন। এরপর রেল হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করে। বম্বে হাইকোর্ট রেলের পক্ষ নিয়েছে এবং CAT-এর নির্দেশ বাতিল করে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত বজায় রাখে। এরপর সওদাগর সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। মামলার সময়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, অভিযোগে বলা ঘুষ নেওয়ার বিষয়টির নির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই বরখাস্তের নির্দেশ বাতিল করা হচ্ছে। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ জানিয়েছে, CAT-এর রায় সঠিক ছিল, কিন্তু হাইকোর্টে সঠিক বিচার পাওয়া যায়নি। এই কারণেই ভি এম সওদাগরকে অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হলো। সঙ্গে তাঁর পরিবারকে পেনশনসহ সমস্ত আনুষঙ্গিক আর্থিক সুবিধা প্রদানের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।


