
The Truth of Bengal: আর পাঁচজনের থেকে ওরা একেবারেই আলাদা। প্রকৃতির রূপ-রঙ দেখা থেকে তাঁরা বঞ্চিত। কারণ দুচোখ দিয়ে ওঁরা প্রকৃতিকে দেখতে পান না। আক্ষেপ পূরণ করতে এগিয়ে এসেছে প্রকৃতিপ্রেমী সংগঠনগুলো। ডুয়ার্সের গরুমারা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন মূর্তী নদীর ধারে দৃষ্টিহীন ছেলেমেয়েদের নিয়ে শুরু হয়েছে চার দিনের প্রকৃতি পাঠ শিবির। শিবিরে যোগ দিতে এসেছেন ৫০ জন দৃষ্টিহীন ছেলেমেয়ে। তাঁরা শব্দ শুনে ও অনুভব করে চিনবে গাছপালা, ফুল, পশু-পাখি।গাছবাড়ির পিলখানায় তাঁরা হাতে ছুঁয়ে চিনে নেবে হাতি।
তাঁদের ভাগ করা হয়েছে বেশ কয়েকটি দলে, প্রতিটি দলে রয়েছেন অভিজ্ঞ গাইড। এদের মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের প্রকৃতিকে চেনা ও জানার পাঠ দেওয়া হচ্ছে।শিলিগুড়ির হিমালয়ান ন্যাচার অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের সহযোগিতায় ডুয়ার্সের মেটেলি ব্লকের ধূপঝোড়া পর্যটন কেন্দ্রের মূর্তি নদীর ধারে শুরু হয়েছে এই শিবির। এই শিবিরের উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট হস্তি বিশেষজ্ঞ পদ্মশ্রী পার্বতী বরুয়া, পদ্মশ্রী করিমুল হক, বন্যপ্রাণ বিভাগের মুখ্য বনপাল ভাস্কর জেভি সহ বিভিন্ন পরিবেশপ্রেমী সংস্থার সদস্যরা। শিবিরে অংশগ্রহণ কারীরা মূর্তি , চেল, লিস, ঘিস নামের ৭ টি তাঁবুতে রয়েছেন।
শিবিরে অংশগ্রহণকারী ৫০ জনকে কয়েকটি দলে বিভক্ত করা হয়েছে।আগামী তিনদিন শিবিরেঅংশগ্রহণ কারিদের জঙ্গলের বিভিন্ন গাছ, পাতা ফুল ফল ও বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর মূর্তিকে স্পর্শ করিয়ে এবং তাদের গন্ধের মাধ্যমে চিনতে পেরে রোমা়ঞ্চ অনুভব করেছেন তাঁরা।বন্যদের স্নেহ করার প্রতি আবেদন জানান পার্বতী বড়ুয়া। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই শিবির চলবে বলে জানা গিয়েছে। শিবিরে যোগ দেওয়া পূর্নিমা ওঁরাও, বিশাল মাহালি, অনিষা ওঁরাও, পলাশ বর্মণদের কারও বাড়ি ময়নাগুড়ি, আবার কারও বাড়ি লুকসান চা বাগানে। তাঁদের থাকার জন্য নদীর ধারে সারি দিয়ে লাগানো হয়েছে তাঁবু। বাড়ির চেনা ছন্দের বাইরে মুক্তাঙ্গনে এসে তাঁরা বেশ খুশি।






