
The Truth of Bengal: শুরু হয়েছিল রাজার আমলে। সেই নিয়ম আজও চলে আসছে। রাজার প্রচলিত রীতি মেনে কালী দৌড় প্রতিযোগিতা। মালদার চাঁচলের মালতীপুরে আয়োজিত হয় এই ঐতিহ্যবাহী কালী দৌড়। এলাকার আটটি কালী প্রতিমাকে কাঁধে নিয়ে দৌড়ন এলাকাবাসী। কালী দৌড় প্রতিযোগিতাকে ঘিরে এলাকায় দেখা যায় সম্প্রীতির আবহ। মাথায় করে মা কালীর প্রতিমা নিয়ে অভিনব এই ‘কালী দৌড়’-এর আয়োজনের শুরু আজ থেকে সাড়ে তিনশো বছর আগে। প্রতিযোগিতা দর্শনে ভিড় উপচে পড়ে এলাকায়। মালতীপুর এলাকার আটটি কালী প্রতিমাকে কাঁধে নিয়ে দৌড়ন এলাকাবাসী। প্রায় ৩৫০ বছর আগে মালদার চাঁচলের তৎকালীন রাজা শরৎচন্দ্র রায় চৌধুরি চালু করেছিলেন প্রথা।
কিন্তু কেন এই কালী দৌড়? এর পেছনে আছে এক আশ্চর্য কাহিনি। জানা যায়, সেই সময় মালদার মালতীপুর এলাকায় পুকুরের সংখ্যা ছিল মাত্র একটি। মালতীপুর কালীবাড়ি লাগোয়া পুকুরে বিসর্জন দেওয়া হতো একাধিক কালী প্রতিমাকে। সে সময় চাঁচলের রাজা শরৎচন্দ্র রায় চৌধুরি সুষ্ঠুভাবে প্রতিমা নিরঞ্জন করার জন্য শুরু করেছিলেন এক প্রতিযোগিতা। দীপান্বিতা অমাবস্যা অর্থাৎ কালীপুজোর পরের দিন সন্ধ্যায় মালতীপুর বাজারে সেই দৌড় প্রতিযোগিতা আয়োজন করেন। এই প্রতিযোগিতার নিয়ম ছিল দৌড়ে যাদের প্রতিমা অক্ষত থাকবে, সেই প্রতিমাকেই প্রথম বিসর্জন দেওয়া হবে কালীদিঘিতে।
সেই দৌড়ের রীতি চলে আসছে আজও।বর্তমানে নেই রাজা, নেই তাঁর রাজবৈভব। কিন্তু রাজার প্রচলিত রীতিনীতি আজও অব্যাহত মালতীপুরে। এলাকার মোট আটটি কালী প্রতিমা নিয়ে দৌড় প্রতিযোগিতা হয়। যার মধ্যে ছিল বুড়ি কালী, চুনকা কালী, বাজারপাড়া কালী, আম কালী, হ্যান্টা কালী, হাট কালী ও শ্যামা কালী। পুজো কমিটি ও এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে কালী প্রতিমাকে কাঁধে নিয়ে দৌড়ে যান ঘাটের দিকে। মালতীপুর বাজার এলাকা পরিক্রমা করে প্রতিমাকে নিয়ে যান কালীবাড়ি লাগোয়া কালীদিঘিতে। এই প্রতিযোগিতার দেখতে ভিড় জমায় দূর দুরান্ত থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ।
Free Access






