রাজ্যের খবর

ভেঙে চলেছে ঘোড়ামারা দ্বীপ! ঘর পেতে চলেছে ৩০টি অসহায় পরিবার

Ghoramara Island

The Truth of Bengal: কথায় আছে, ‘নদীর ধারে বাস তার ভাবনা বারো মাস’। এই প্রবাদটি একশো শতাংশ সত্যি ঘোড়ামারার দ্বীপের বাসিন্দাদের জন্য। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বারে বারেই ভেঙেছে সুন্দরবনের ঘোড়ামারা দ্বীপ। আর ভাঙতে ভাঙতে বর্তমানে প্রায় নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে। ভেঙেছে একের পর এক বাড়ি থেকে শুরু করে স্কুল। আর এই ভাঙনে মাথা গোঁজার ঠাই হারিয়েছিল প্রায় ৩০টি পরিবার। আশ্রয় গড়ে দেওয়ার জন্য ওই পরিবারগুলি বারবার দরবার করেছিল সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রীর কাছে। অবশেষে তাদের পাশে দাঁড়াল সরকার।

সবকিছু খতিয়ে দেখে অসহায় পরিবারগুলির জন্য গঙ্গাসাগরের কমলপুর এলাকায় তাদের স্থায়ী বাসস্থানের গড়ে তোলার পরিকল্পনা হয়। অবশেষে কমলপুর এলাকায় ৩০টি পরিবারের মাথা গোজার ঠাই দিতে পাকা বাড়ির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা। শুধু আশ্রয় দেওয়া নয়। সব হারিয়ে জন্মস্থান ছেড়ে আসা পরিবারগুলির কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হল প্রশাসনের উদ্যোগে। তাদের জন্য ওই এলাকাতেই তৈরি হবে আধুনিক পোল্ট্রি ফার্ম। যেখানে তারা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। আশ্রয়ের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হওয়ায় সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অসহায় পরিবারগুলি।

ঘোড়ামারা দ্বীপের বাসিন্দাদের জন্য অনেক কিছু করেছেন সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা। মূলত তাঁর উদ্যোগেই ৩০টি পরিবার সাগরদ্বীপে পেতে চলেছে পাকা আশ্রয়। মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ঘোড়ামারা দ্বীপকে ঘিরে রয়েছে নদী ও সমুদ্র। এক দিকে বটতলা, মুড়িগঙ্গা ও হুগলি নদী। অন্যদিকে বঙ্গোপসাগর। দ্বীপটি একসময় সাগরদ্বীপের অংশ ছিল। তবে ভাঙনের জন্য এখন সাগরদ্বীপের সঙ্গে দূরত্ব অনেকটাই বেড়েছে ঘোড়ামারা দ্বীপের। মাঝখানে শুধু ক্ষয়েই চলেছে। ঘোড়ামারা ভাঙন অবযহত আছে। তবে ভাঙন বেশি বাড়ে কোটালের সময়। সেই সময় বাঁধ ভেঙে জল ঢোকে ঘোড়ামারা দ্বীপে। আর সেই বিপর্যয়ে প্রতিবারই কেউ না কেউ ছেড়ে আসতে বাধ্য হন জন্মস্থান। তেমন ৩০টি পরিবারের পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার।

 

Related Articles