বাংলা-অন্ধ্র-অসমের পর এবার বিহারে এনকাউন্টার! পুলিশের গুলিতে খতম ৩ কুখ্যাত দুষ্কৃতী
সংঘর্ষের পর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিন অভিযুক্তকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন
Truth of Bengal: ভোরে বিহারের পটনা জেলার মানের থানা এলাকার গঙ্গা তীরবর্তী শেরপুরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ ও অভিযুক্তদের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে গুলির লড়াই। দু’পক্ষ মিলিয়ে মোট ৪২ রাউন্ড গুলি চলে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সংঘর্ষের পর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিন অভিযুক্তকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সংঘর্ষে মানের থানার এক পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন। তাঁর নাম রজনীশ কুমার। গুলির আঘাত লেগেছে তাঁর বাঁ হাতে। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
পটনা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক কার্তিক কুমার শর্মা জানিয়েছেন, শেরপুর এলাকায় কয়েক জন দুষ্কৃতী অশান্তি ছড়ানোর পরিকল্পনা করছে বলে পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে। সেই খবরের ভিত্তিতেই অপরাধদমনে অভিযানে নামে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ। অভিযানে সামিল হয় পটনা পুলিশের একটি দলও। পুলিশবাহিনী নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছনোর পরেই তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে অভিযুক্তেরা। পাল্টা জবাব দেয় পুলিশও। শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র গুলির লড়াই। পুলিশের দাবি, পাল্টা গুলিতে তিন অভিযুক্ত গুরুতর জখম হন। এরপরই সংঘর্ষ থামে। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ তিনজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা তিনজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থল থেকে দু’টি পিস্তল, একটি দেশি বন্দুক এবং বেশ কয়েকটি খালি কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পটনা পুলিশের ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের তরফে ২৪ রাউন্ডেরও বেশি গুলি চালানো হয়েছিল। অন্যদিকে, আত্মরক্ষার্থে পুলিশ মোট ১৮ রাউন্ড গুলি চালায়। গোটা ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য খতিয়ে দেখতে তিনজনের ময়নাতদন্তের ভিডিয়োগ্রাফি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, নিহত তিনজনই একটি খুনের মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। দুর্গাষ্টমীর দিন একটি খুনের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযুক্তদের খোঁজ করছিল পুলিশ। শুধু তাই নয়, দানাপুর ও শাহপুর থানা এলাকাতেও তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি পুলিশের। সব মিলিয়ে, পটনার এই এনকাউন্টার ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।



