ভিনরাজ্যে আলু পাঠালেই কুইন্টালে ৫০ টাকা ভর্তুকি, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর
পাশাপাশি আলুকে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে
Truth of Bengal: আলু চাষিদের জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। এবার থেকে বাংলার আলু ভিনরাজ্যে পাঠানোর ক্ষেত্রে আর কোনও বাধার মুখে পড়তে হবে না কৃষকদের। ঝাড়খণ্ড, বিহার, অসম কিংবা উত্তরপ্রদেশ—যে কোনও রাজ্যে আলু নিয়ে যেতে পারবেন চাষিরা। শুধু তাই নয়, গাড়ি কিংবা ট্রেনে আলু রপ্তানি করলে প্রতি কুইন্টালে ৫০ টাকা করে ভর্তুকিও দেবে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি আলুকে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিমার জন্য কৃষকদের যে অংশের টাকা জমা দেওয়ার কথা, সেটিও মেটাবে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার হুগলির পুরশুড়া থেকে কৃষকদের স্বার্থে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের বক্তব্যে বিগত তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে বাংলার আলু অন্য রাজ্যে পাঠানোর ক্ষেত্রে বারবার বাধা তৈরি করা হত। ফলে উৎপাদন বেশি হলেও কৃষকরা ন্যায্য দাম পেতেন না। অনেক সময় আলু নষ্ট হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হত। সেই প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতিরিক্ত উৎপাদন হলে ঝাড়খণ্ড, বিহার, অসম এবং উত্তরপ্রদেশে আলু পাঠানোর ক্ষেত্রে সীমান্তে বাধা দেওয়া হত। কিন্তু এবার থেকে কোনও আলুচাষির গাড়ি সীমান্তে আটকানো যাবে না। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাঁর।
আলুর ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতেও বিশেষ আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এবার থেকে আলুর কুইন্টালপিছু ১১২০ টাকা ফি-বন্ড মূল্য নির্ধারণ করা হবে। বাজারে আলুর দাম এই নির্ধারিত মূল্যের নিচে নেমে গেলে যে ঘাটতি তৈরি হবে, সেই অর্থ ভর্তুকি হিসেবে দেবে রাজ্য সরকার। প্রয়োজনে এর জন্য যত টাকাই খরচ হোক, কৃষকদের পাশে সরকার থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু। কালোবাজারি নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। কোথাও আলু নিয়ে কালোবাজারি বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে মোট আলু উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ১৪০ লক্ষ মেট্রিক টন। তার মধ্যে ৭৫ লক্ষ মেট্রিক টনেরও বেশি আলু হিমঘরে মজুত করা হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত সেখান থেকে প্রায় ৪৮ লক্ষ মেট্রিক টন আলু বেরিয়েছে। ফলে বর্তমানে হিমঘরে অবশিষ্ট রয়েছে প্রায় ২৭ লক্ষ মেট্রিক টন আলু।
এই মজুত আলু ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বের করে আনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও আইন অনুযায়ী প্রয়োজনে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যাতে আলু বেরিয়ে আসে, সেই বিষয়ে আশাবাদী তিনি। বৃহস্পতিবার পুরশুড়ায় ‘কিষাণ সম্মান নিধি’ প্রকল্পের সূচনাও করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই উপলক্ষে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা পাবেন ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। আংশিক ক্ষতির ক্ষেত্রে দেওয়া হবে ৯০ হাজার টাকা এবং সামান্য ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া বন্যায় বিপর্যস্ত ভুতনির চরের ১০ হাজার ৭৫০ জন কৃষকের হাতে বীজ তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের বিদ্যুৎ খরচেও স্বস্তি দিতে ৪ লক্ষ কৃষককে প্রতি ইউনিটে ২ টাকা করে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪৬ লক্ষ কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।






