চোরবাগান কাণ্ডে SIT গঠন রাজ্যের, তিন মাসে রিপোর্ট জমার নির্দেশ
কলকাতা হাই কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে এই তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে
জ্যোতির্ময় দত্ত, কলকাতা: কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপের কাছে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করল রাজ্য সরকার। বুধবার, ২১ অক্টোবর জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, কলকাতা হাই কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে এই তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীকে SIT-এর চেয়ারপার্সন করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট ও সুপারিশ রাজ্য সরকারের কাছে জমা দিতে হবে।
গত ১৭ অক্টোবর চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপের কাছে ভিড়ের চাপে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ঠিক কী পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনা ঘটেছিল, কীভাবে ভিড়ের চাপ তৈরি হয়েছিল এবং কোথাও কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখবে SIT।
ভিড় নিয়ন্ত্রণ থেকে জরুরি পরিষেবা, তদন্তের আওতায় সব দিক
তদন্তের ক্ষেত্রে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়ের পরিমাণ, প্রবেশ ও বেরনোর পথ, ব্যারিকেড, সিঁড়ি, জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা এবং মণ্ডপের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি, দুর্ঘটনার সময় পুজো উদ্যোক্তা, পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক, বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী, দমকল ও অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার ভূমিকা কী ছিল, তাও পরীক্ষা করবে তদন্তকারী দল।
ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে CCTV ফুটেজ, মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও, পুলিশ ও কন্ট্রোল রুমের নথি, চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য-সহ বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হবে।
প্রশাসনিক গাফিলতি থাকলে পদক্ষেপের সুপারিশ
পুজোর অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, ভিড় নিয়ন্ত্রণের পর্যাপ্ত পরিকল্পনা ছিল কি না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দর্শনার্থীদের নিরাপদে বের করে আনার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তা-ও তদন্ত করে দেখবে SIT।
পুলিশ, কলকাতা পুরসভা, পূর্ত দফতর, দমকল-সহ সংশ্লিষ্ট কোনও সরকারি সংস্থা বা ব্যক্তির কর্তব্যে অবহেলা, প্রশাসনিক গাফিলতি কিংবা সমন্বয়ের অভাব ছিল কি না, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হবে। তদন্তে কোনও অনিয়মের প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুপারিশ করবে কমিটি।
একাধিক দফতরের প্রতিনিধিরা থাকছেন তদন্তকারী দলে
রাজ্যের নির্দেশিকা অনুযায়ী, SIT-এ থাকছেন বিপর্যয় মোকাবিলা ও অসামরিক প্রতিরক্ষা দফতরের প্রধান সচিব, রাজ্য পুলিশের STF-এর ডিজি-আইজিপি, রাজ্য পুলিশের ডিজির প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের প্রতিনিধি এবং কলকাতায় কর্মরত জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)-এর একজন প্রতিনিধি।
তদন্তের প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সহায়তা নিতে পারবে SIT। নির্দেশিকায় সংশ্লিষ্ট দফতর ও সংস্থাগুলিকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার কথাও বলা হয়েছে।
ক্ষতিপূরণ ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও নজর
দুর্ঘটনায় মৃত ও আহতদের পরিবারকে দেওয়া আর্থিক সাহায্য, ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও তদন্তের আওতায় থাকবে। একই সঙ্গে উত্তর কলকাতার ঘিঞ্জি এলাকায় বড় পুজোর সময় ভিড় সামলাতে ভবিষ্যতে কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়েও সুপারিশ করতে পারে তদন্তকারী দল।
প্রবেশ ও নির্গমন পথে নজরদারি, CCTV ব্যবস্থার উন্নতি, জরুরি ঘোষণা, দ্রুত উদ্ধার পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার মতো বিষয়গুলিও গুরুত্ব পাবে তদন্তে।
তিন মাসের মধ্যে SIT-এর রিপোর্ট জমা পড়ার পর তার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করবে রাজ্য সরকার। চোরবাগান কাণ্ডে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং দায়িত্বে গাফিলতি থাকলে তা চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে এই তদন্তের রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।






