দেশ

‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচির আগেই বাড়ি ঘেরাও! দিল্লিতে অভিজীত দিপকেকে গৃহবন্দি করল পুলিশ

নির্ধারিত কর্মসূচির আগেই তাঁর দিল্লির আবাসন ঘিরে ফেলল বিশাল পুলিশ বাহিনী

Truth of Bengal: আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের গ্রেফতারির প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেল ৫টায় দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা প্রধান অভিজীত দিপক। কিন্তু নির্ধারিত কর্মসূচির আগেই তাঁর দিল্লির আবাসন ঘিরে ফেলল বিশাল পুলিশ বাহিনী। এক পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে দিপকের দাবি, তাঁকে কর্মসূচি বাতিল করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।

সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, সোফায় বসে এক পুলিশ আধিকারিককে প্রশ্ন করছেন দিপক, ‘‘আমার বিরুদ্ধে আপনি কী ধরনের অভিযোগ এনেছেন?’’ বৃহস্পতিবারই দিল্লি পুলিশ হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা অমান্য করে কনট প্লেস চত্বরে চার বা তার বেশি ব্যক্তি জমায়েত করলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। তবে শুক্রবার পুলিশ জানিয়েছে, ১১ জনকে জাতীয় পতাকা নিয়ে কনট প্লেসে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেই অনুমতিপ্রাপ্তদের তালিকায় দিপকের নাম নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। তাঁর বাড়িতে পুলিশের উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচি বন্ধ করার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন দিল্লির একটি ব্যবসায়ী সংগঠন। তবে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানিয়েছে, ‘‘আমরা আশা করছি, শুভবুদ্ধির জয় হবে।’’ দিল্লির ব্যবসায়ীদের জীবিকা ও ব্যবসার অধিকার রক্ষার আবেদন জানিয়ে দায়ের হওয়া মামলাটির শুনানি দশেরার পরে, আগামী ২৬ বা ২৭ অক্টোবর হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।

দিল্লির দুই প্রধান ব্যবসায়ী সংগঠন— ‘চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (সিটিআই) এবং ‘নিউ দিল্লি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (এনএমডিএ)— বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি দিয়েছিল। তাদের দাবি, শুধু যন্তর মন্তর বা কনট প্লেস নয়, দীপাবলি পর্যন্ত গোটা রাজধানীতে সব ধরনের বিক্ষোভ ও ধর্না বন্ধ করা হোক। সংগঠনগুলির বক্তব্য, এভাবে লাগাতার আন্দোলন চলতে থাকলে ব্যবসায়ীরা অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। তবে ব্যবসায়ীদের আপত্তি সত্ত্বেও পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেননি অভিজীত দিপক। ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক নাম ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’। শুক্রবার বিকেল ৫টায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে সেই কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা প্রধান। ফলে কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লি পুলিশের অবস্থান এবং শেষ পর্যন্ত কী পরিস্থিতি তৈরি হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

Related Articles