সাতসকালে তিলোত্তমায় ইডির হানা, বড়বাজার-পোস্তায় একযোগে ৯ জায়গায় জোড়দার ‘রেইড’
এই মামলায় প্রায় ১ হাজার ১০৯ কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে
Truth of Bengal: ফের সাতসকালে কলকাতায় অ্যাকশনে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। রবিবার বড়বাজার ও পোস্তা এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ওড়িশার ভুবনেশ্বরের একটি ব্যাঙ্ক প্রতারণা ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত মামলার সূত্রে কলকাতা-সহ মোট ৯টি জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে দাবি, ‘গুপ্তা পাওয়ার ব্যাঙ্ক’ প্রতারণা মামলার সূত্র ধরেই বড়বাজার-পোস্তার একাধিক ঠিকানায় পৌঁছন ইডি আধিকারিকরা। এই মামলায় প্রায় ১ হাজার ১০৯ কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেওয়ার পর সেই অর্থ অন্যত্র সরিয়ে বা ‘সাইফন’ করে দেওয়া হয়েছিল। ঋণের অর্থ কোথায় গিয়েছে, কারা তার সুবিধাভোগী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির মধ্যে কী ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়েছে—সেই সব তথ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই মামলায় এর আগে সিবিআইও তল্লাশি চালিয়েছিল।
সম্প্রতি কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক মামলায় ধারাবাহিকভাবে তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। গত সপ্তাহেই কলকাতা ও জেলা মিলিয়ে প্রায় ১৫টি জায়গায় অভিযান চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। সেই তল্লাশির তালিকায় ছিল প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের একাধিক ঠিকানাও। ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ ও পাস বিক্রি ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে টিকিট বা পাস বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অর্থ তোলার অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁর কসবার বাড়ি, হিন্দুস্তান পার্ক, হাইল্যান্ড পার্ক-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছিল। পাশাপাশি পঞ্চসায়রে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার ঠিকানাতেও অভিযান হয়।
এরও আগে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে কলকাতার নারকেলডাঙা, নেতাজিনগর, রবীন্দ্র সরোবর-সহ অন্তত ছ’টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই অভিযান ছিল একটি চিটফান্ড প্রতারণা মামলার সূত্রে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, চিটফান্ডের মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করা হয়েছিল। ফলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় একের পর এক আর্থিক দুর্নীতি ও প্রতারণা মামলায় সক্রিয় রয়েছে ইডি। এবার নজরে বড়বাজার ও পোস্তা—১১০৯ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক প্রতারণা মামলার টাকার গতিপথই এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য।






