কলকাতা

পুজোর মুখে কাটল চাকরি হারানোর আতঙ্ক! শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে স্বস্তিতে আইসিটি শিক্ষকরা

সংগঠনের দাবি, তাদের একাধিক বিষয় বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী

Truth of Bengal: চাকরি হারানোর আশঙ্কায় সোমবার থেকে বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেছিলেন রাজ্যের সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলগুলির চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকরা। মঙ্গলবার স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের সঙ্গে দু’দফা বৈঠকের পর আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় ‘আইসিটি ঐক্য মঞ্চ’। সংগঠনের দাবি, তাদের একাধিক বিষয় বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। আপাতত ‘সার্ভিস ব্রেক’ এড়াতে টেন্ডারের মাধ্যমে নির্বাচিত এজেন্সির অধীনেই ৩,৭১৯ জন শিক্ষক কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানা গিয়েছে। শিক্ষকদের দাবি নিয়ে স্থায়ী সমাধানে পৌঁছতে ছ’মাস সময় চেয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এই সময়ের মধ্যে সরকারের সঙ্গে সরাসরি চুক্তির ব্যবস্থা এবং শ্রম আইন মেনে বেতন কাঠামো তৈরির চেষ্টা করা হবে বলে আন্দোলনকারীদের দাবি।

একাধিক দাবিতে সোমবার থেকে বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান শুরু করেছিলেন চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকরা। রাতভর চলে বিক্ষোভ। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আন্দোলন চলার পর শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন শিক্ষামন্ত্রী। সেই বৈঠকের পরই আপাতত আন্দোলন তুলে নেওয়া হয়। শিক্ষক রাহুল দাসের দাবি, প্রথম থেকে পঞ্চম ফেজে নিযুক্ত প্রায় পাঁচ হাজার কম্পিউটার প্রশিক্ষকের সঙ্গে যে ভাবে সরকারের সরাসরি চুক্তি রয়েছে, ষষ্ঠ ও সপ্তম ফেজের শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা চালুর আশ্বাস মিলেছে। যদিও এই বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সরাসরি কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চুক্তিভিত্তিক এই শিক্ষকদের সমস্যার মূল কারণ নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা। ২০২২ সাল এবং তার আশপাশের সময়ে বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ৩,৭১৯ জন শিক্ষককে পাঁচ বছরের চুক্তিতে নিয়োগ করা হয়েছিল। অনেকের চুক্তির মেয়াদ এখনও বাকি থাকলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চুক্তি শেষ করার নোটিস দিয়েছে বলে অভিযোগ।

আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, আগের কয়েক দফায় নিযুক্ত কম্পিউটার শিক্ষকদের ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত কাজের সুযোগ দেওয়া হলেও ষষ্ঠ ও সপ্তম ফেজের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সেই সুবিধা দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের বেতনও কমানো হয়েছে বলে অভিযোগ। শিক্ষকদের দাবি, তাঁরা শুধু কম্পিউটার ক্লাসই নেন না, স্কুলের বিভিন্ন সরকারি ডিজিটাল প্রকল্প ও অনলাইন কাজের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। ফলে একসঙ্গে এত সংখ্যক শিক্ষক কাজ হারালে স্কুলের প্রশাসনিক কাজেও প্রভাব পড়তে পারে। শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, “আইসিটি কম্পিউটার শিক্ষকদের নিয়মিতকরণ করা হোক। এত অনিশ্চয়তা নিয়ে কাজ করা মুশকিল। এঁরা বিদ্যালয়ের অপরিহার্য অঙ্গ।”

Related Articles