ব্যাঙ্ক ধর্মঘটে ৩ দিন বন্ধ পরিষেবা, টাকা জমা, চেক ও নগদ তোলা নিয়ে যা জানা জরুরি
ব্যাঙ্ক কর্মীদের মূল দাবি, সপ্তাহে ৫ দিন ব্যাঙ্ক খোলা রেখে শনিবারকে পুরোপুরি ছুটির দিন করা।
Truth of Bengal: টানা ৩ দিন ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই ধর্মঘট। তার ঠিক আগে ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ছিল সপ্তাহান্তের ছুটি। ফলে টানা কয়েক দিন শাখায় গিয়ে ব্যাঙ্কের কাজ করতে সমস্যায় পড়তে পারেন গ্রাহকেরা। এর সঙ্গে মাসের শেষের অর্ধবার্ষিক হিসাব বন্ধের সময় থাকায় চাপ আরও বাড়তে পারে।
ব্যাঙ্ক কর্মীদের মূল দাবি, সপ্তাহে ৫ দিন ব্যাঙ্ক খোলা রেখে শনিবারকে পুরোপুরি ছুটির দিন করা। বর্তমানে দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকে। অন্য শনিবারগুলিতে ব্যাঙ্কের শাখা খোলা থাকে। এই নিয়ম বদলের দাবিতেই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
ধর্মঘটের মধ্যে শাখায় গিয়ে নগদ টাকা জমা দিতে চাইলে সমস্যা হতে পারে। কারণ এই কাজের ক্ষেত্রে সাধারণত ব্যাঙ্ক কর্মীর সাহায্য প্রয়োজন হয়। তবে নগদ জমা দেওয়ার যন্ত্র বা এটিএমের নির্দিষ্ট সুবিধা থাকলে সেগুলি ব্যবহার করে টাকা জমা করা যেতে পারে। নগদ টাকা তোলার ক্ষেত্রেও এটিএম ব্যবহার করা যাবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির পক্ষ থেকে গ্রাহকদের এটিএম, স্বয়ংক্রিয় টাকা জমা ও তোলার যন্ত্র এবং গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্র ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি মোবাইল ব্যাঙ্কিং, ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং এবং ইউনিফায়েড পেমেন্ট পরিষেবার মতো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করতেও বলা হয়েছে।
তবে সব ব্যাঙ্ক পরিষেবা ডিজিটাল মাধ্যমে পাওয়া যাবে না। যে কাজের জন্য শাখায় গিয়ে নথি জমা দিতে হয় বা ব্যাঙ্ক কর্মীর সাহায্য প্রয়োজন হয়, সেই কাজগুলিতে দেরি হতে পারে। বিশেষ করে চেক জমা দেওয়া, চেক সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য শাখাভিত্তিক পরিষেবায় সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ধর্মঘটের প্রভাব ব্যবসা ও সরকারি লেনদেনেও পড়তে পারে। শাখা বন্ধ থাকলে যে সব লেনদেনে সরাসরি ব্যাঙ্কের কর্মীদের সাহায্য প্রয়োজন, সেগুলি আটকে যেতে বা দেরি হতে পারে। গ্রাহকদের সমস্যা কমাতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এবং আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলিকে ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার শাখা খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ফলে যাঁদের হাতে সময় ছিল, তাঁরা ধর্মঘটের আগে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
আগামী ৩ দিনে টাকা তোলার প্রয়োজন হলে এটিএম ব্যবহার করা যেতে পারে। টাকা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে নগদ জমা দেওয়ার যন্ত্র ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে। আর চেক বা নথিপত্রের মতো শাখানির্ভর কাজ থাকলে ধর্মঘটের কারণে বিলম্ব হতে পারে, তাই সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।





